খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
হৃদরোগ শুধুমাত্র বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; কিশোর-কিশোরীরাও এখন আগের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। বর্তমানে অনেক তরুণ স্কুলে ক্লাস করতে বা খেলাধুলা করতে গিয়ে হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত হচ্ছেন। অবাক লাগলেও সত্যি, কম বয়সেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।
আসুন জেনে নিই কিশোর-কিশোরীরা কেন হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন—
১. চিকিৎসকদের মতে, জীবনধারা, পরিবেশ এবং জেনেটিক গঠন হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। হৃদরোগ জিনগতভাবে হতে পারে। অর্থাৎ বাবা-মা, ভাই-বোন ও আত্মীয়স্বজনের হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস থাকলে কিশোর-কিশোরীর হৃদরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
২. অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা বিভিন্ন স্বাস্থ্য জটিলতা সৃষ্টি করে, যা শেষপর্যায়ে হার্ট অ্যাটাকের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনিয়মিত খাবার, পর্যাপ্ত না ঘুমানো, টানা পরিশ্রম, মানসিক চাপ, হতাশা এবং মাদকাসক্তি কিশোর-কিশোরীদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
৩. শরীরে কোলেস্টেরল জমে ধমনী শক্ত ও সরু হয়ে যেতে পারে। এটিকে এথেরোস্ক্লেরোসিস বলা হয়। এই সমস্যা শৈশব থেকেই শুরু হতে পারে এবং বয়সের সঙ্গে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
৪. কিশোর-কিশোরীরা রাতে ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় রিল দেখা বা ভিডিও গেম খেলার অভ্যাসের কারণে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা তৈরি হতে পারে। স্ক্রিনের দিকে দীর্ঘ সময় তাকালে মানসিক উত্তেজনা তৈরি হয়, যার ফলে হৃদস্পন্দন ও অ্যাড্রেনালিনের মাত্রা বেড়ে স্ট্রেস বৃদ্ধি পায়। এটি হার্টের সমস্যার কারণ হতে পারে।
কার্যকরী পরামর্শ
১. হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে কিশোর-কিশোরীর জন্য সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য অপরিহার্য। নিয়মিত শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য এবং কম চর্বি যুক্ত প্রোটিন খেতে হবে।
২. অতিরিক্ত চিনি, বিশেষ করে চিনিযুক্ত পানীয় পরিহার করতে হবে।
৩. ফাস্ট ফুড ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া বন্ধ করতে হবে। এতে প্রচুর ফ্যাট, সোডিয়াম ও শর্করা থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
৪. টেলিভিশন, ভিডিও গেম এবং অন্যান্য ডিভাইসের জন্য স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অপরিহার্য।
৫. অনলাইনে ফ্যাট ডায়েট অনুসরণ করা কিশোরদের জন্য বিপজ্জনক। এটি এড়িয়ে চলতে হবে।
৬. নিয়মিত শরীরচর্চা করতে হবে। হাঁটা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, যোগব্যায়াম, বাস্কেটবল বা বাগান করার মতো শখের কাজ শরীরকে সক্রিয় রাখে।
৭. বছরে অন্তত একবার পুরো দেহের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।
সূত্র: দ্য টেক্সাস হার্ট ইনস্টিটিউট, মায়ো ক্লিনিক, আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন
খবরওয়ালা/টিএসএন