খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 12শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২৭ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণে সীমারেখা বেঁধে দিয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৮.৪৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ নিতে পারবে। এর মধ্যে প্রথম ত্রৈমাসিকে ১.৯১ বিলিয়ন ও প্রথমার্ধে ৩.৩৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ নেওয়া যাবে না। আইএমএফ প্রতি তিন মাসে ঋণ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।
গত জুনে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি অনুমোদনের সময় এই নতুন শর্ত আরোপ করা হয়। তখন মূল ঋণ ৮০০ মিলিয়ন ডলার বাড়ানো হয় এবং মেয়াদও ছয় মাস বাড়ানো হয়। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ এই প্রোগ্রাম থেকে ৩.৬ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, আইএমএফের সর্বশেষ ঋণ স্থায়িত্ব বিশ্লেষণ (ডিএসএ) অনুযায়ী বাংলাদেশকে ধারাবাহিকভাবে ‘মধ্যম ঝুঁকি’র দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। রপ্তানি ও রাজস্ব আয়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিএসএ অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ অর্থবছরে ঋণ–রপ্তানি অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১৬২.৭ শতাংশ, যা প্রাক্কলনের তুলনায় অনেক বেশি। ঋণ–রাজস্ব অনুপাতও বেড়েছে। ফলে সরকারের নতুন ঋণ নেওয়ার সক্ষমতা কমেছে।
অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, ‘আইএমএফ আগে বাংলাদেশের ঋণ পরিস্থিতিকে উজ্জ্বলভাবে উপস্থাপন করত। কিন্তু রিজার্ভ ঘাটতি ও বৈদেশিক মুদ্রা সংকটের কারণে এখন বাস্তব চিত্র ধরা পড়ছে।’
সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘বিদেশি ঋণ ও ঋণ পরিশোধের বোঝা অনেক বেড়েছে। নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে আইএমএফের এই উদ্যোগ সতর্কতামূলক ও যথাযথ।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘রিজার্ভ ও রাজস্বে কিছু উন্নতি হলেও বিনিয়োগ কম থাকায় অতিরিক্ত বৈদেশিক ঋণ নির্ভরতা দীর্ঘমেয়াদে ভালো নয়।’
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯–১০ অর্থবছরে যেখানে বৈদেশিক ঋণ ছিল ২০.৩ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩–২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮.৮ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৫ সালের জুনে ঋণের অংক পৌঁছেছে ৮০.১৯ বিলিয়ন ডলারে।
তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিদেশি ঋণ নেওয়ার প্রবণতা অনেকটা কমেছে। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে নতুন ঋণ ছিল ৮.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরে জুলাই ও আগস্টে নেওয়া ঋণও ছিল খুবই সীমিত।
খবরওয়ালা/এন