খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে। আড়ম্বর আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বরণ করেছেন তারা। দশমীতে বিদায়ের আগ পর্যন্ত চলবে এই পূজা-অর্চনা।
বাঙালির উৎসব মানেই খাবারের আয়োজন, আর পূজায় তা আরও বৈচিত্র্যময়। নানা রকম নাড়ু, মোয়া, পায়েস, সন্দেশ ছাড়া পূজার ভোজ যেন জমেই না। বিশেষ করে নারকেলের নাড়ু আর নারকেল গুড়ের সন্দেশ পূজার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
এদিকে পূজার আচারে নারকেলের ব্যবহার থাকায় এর চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। সেই সুযোগে বাজারে দামও হু-হু করে বাড়ছে। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌর শহরসহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, থরে থরে সাজানো নারকেল কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। কিন্তু দাম এতটাই চড়া যে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গেছে।
গত পূজায় যেখানে এক জোড়া নারকেল বিক্রি হতো ১৫০ থেকে ২০০ টাকায়, এবার সেই দাম দাঁড়িয়েছে ২৬০ থেকে ৩৫০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিটি নারকেলের দাম বেড়েছে ১৩০ থেকে ১৭৫ টাকা। অন্যদিকে গুড়ের দামও বেড়েছে। গত বছর কেজিপ্রতি ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হওয়া গুড় বর্তমানে ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, দুর্গাপূজা উপলক্ষে গুড় এবং ঝুনা নারকেলের চাহিদা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মানভেদে আখের গুড় কেজিপ্রতি ১১০-১২০ টাকা এবং প্রতি জোড়া নারকেল আকারভেদে ২৬০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে প্রতি নারকেল ১৩০-১৭০ টাকায় কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
খুচরা বিক্রেতা মফিজুল ইসলাম, রহিদুল ইসলাম ও আইয়ুব আলী জানান, একটা ডাবের দাম এখন আকারভেদে ১২০-১৫০ টাকা। আড়তে দাম বেশি থাকায় আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
তারা আরও জানান, নারকেল খুলনা, ভোলা, বরিশাল ও নোয়াখালী থেকে আসে। ডাবের চাহিদা ও দাম বেশি থাকার কারণে নারকেলের দামও বেড়েছে। দাম বেশি হওয়ায় বিক্রি কম হচ্ছে, অনেকে দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন বলেও জানান তারা।
ক্রেতা উত্তম কুমার ও গণেশ দাশ বলেন, নারিকেল ছাড়া পূজার কথা ভাবাই যায় না। আত্মীয়-স্বজন বাড়িতে এলে তাদের আপ্যায়নে মিষ্টিজাতীয় খাবার করতে হয়। এর মধ্যে নারকেলের নাড়ু অন্যতম। তাই এ সময় চাহিদা, দাম উভয়ই বাড়ে।
গণেশ আরও বলেন, আশ্বিন-কার্তিক মাসে সংসারে অভাব থাকে। কিন্তু অভাব যতই হোক, মা দুর্গার পূজায় ফলমূল, মোয়া, নাড়ু, নারকেল দিতে হয়। দাম বেশি হলেও কিনতেই হয়।
খয়েরবাড়ী গ্রামের আল্পনা রানী জানান, পূজা চলছে, বাড়িতে বাচ্চারা আছে, অতিথি এলে তাদের আপ্যায়ন করতে হয়। তাই দুটো নারকেল কিনলাম।
বিপদ চন্দ্র দাস নামে এক ক্রেতা বলেন, দাম বেশি হলেও পূজোতে নারকেল আর গুড় কিনতেই হয়। তাই ৫২০ টাকায় খোসাসহ চারটি নারকেল কিনেছি, আর ২২০ টাকায় দুই কেজি গুড় নিয়েছি।
খবরওয়ালা/শরিফ