খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র নেতা নাহিদ ইসলামের সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) আতিক মোর্শেদের বিরুদ্ধে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এর ১৫০ কোটি টাকা বেহাতের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও, প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ পদে স্ত্রীসহ আত্মীয়স্বজনকে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, ‘আতিক মোর্শেদ কি নাহিদ ইসলামের পরামর্শেই এসব দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন?’
আলোচনার কেন্দ্রে থাকা আতিক মোর্শেদ একসময় তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের ঘনিষ্ঠ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ‘নগদ’-এ গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ দেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, সেখানেই অবস্থান করে রাষ্ট্রায়ত্ত অর্থ ও নিয়োগে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি।
শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এমন প্রশ্ন তোলেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন বলেন, সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের বিশেষ সহকারী (পিএ) আতিক মোর্শেদের বিরুদ্ধে বেশকিছু গুরুতর অভিযোগ আসলেও নাহিদ ইসলাম দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ বা মন্ত্রণালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করেননি। এক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকে যায় নাহিদ ইসলামের পরামর্শেই আতিক মোর্শেদ এসব কাজে জড়িত কি না? অন্যথায় এসব বিষয়ে নাহিদ ইসলাম কেন চুপ ছিলেন বা এখনো চুপ আছেন?
একটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের বরাত দিয়ে রাশেদ খাঁন জানান, এবার আতিক মোর্শেদের বিরুদ্ধে নগদ থেকে দেড়শ কেটি টাকা বেহাতের তথ্য প্রকাশ হয়েছে।নগদের ডেপুটি সিইও মুয়ীজ নাসনিম ত্বকির সাথে মিলিত হয়ে এই কাজ করেছে আতিক মোর্শেদ।
তিনি বলেন, নগদের সীমাহীন লুটপাটের সঙ্গে জড়িত ও মূল হোতাদের একজন প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি সিইও মুয়ীজ নাসনিম ত্বকিকে গত ১৮ মে রাতে বেইলি রোডের বাসা থেকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে পরদিন বিকেলে বিভিন্ন দেনদারের তাকে কারাগারে না পাঠিয়ে ডিবি থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয়। আতিক মোর্শেদের সরাসরি হস্তক্ষেপে ডিবি পুলিশ তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এক্ষেত্রে প্রশ্ন থেকে যায় পিছন থেকে কে আতিক মোর্শেদকে এখনো সাপোর্ট করে যাচ্ছে? কেই বা তাকে নগদের পরিচালনার দায়িত্ব দিলো?
ওই সংবাদের তথ্য তুলে ধরে রাশেদ খাঁন জানান, ডেপুটি সিও এবং আতিক মোর্শেদ মিলে নগদের সবকিছু সামলাচ্ছেন। নগদ ভবনের ৬ তলার একই রুমে নিয়মিত অফিস করছেন আতিক মোর্শেদ।
অথচ আতিক মোর্শেদ নগদের কোন কর্মকর্তা নন। এমনকি আতিক মোর্শেদ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তার স্ত্রী জাকিয়া সুলতানা জুঁইকে নগদের ম্যানেজার কমপ্লায়েন্স পদে বসিয়েছেন। তাছাড়া চাকরি দিয়েছেন অনেক নিকট আত্মীয়দের।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, নাহিদ ইসলামের একটা কথা আমার প্রায় কানে বাজে আমাদের ডোনেট করছে ধনীরা। কিন্তু সেই ধনীরা কারা? নাহিদ ইসলাম কি পারবে এসবের দায় এড়াতেই আজকেই পুলিশের হাতে আতিক মোর্শেদকে তুলে দিতে? অবশ্যই বিশেষ সহকারীর এসব কাজের দায়ভার সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া নাহিদ ইসলামের এড়ানোর কোনো সুযোগ নেই।