খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সংগঠনের কেন্দ্রীয় আজীবন সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক বলেছেন, “বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। কিন্তু এখানে নদীর ওপর যে অনাচার ও অবিচার হয়েছে, তা বর্বরতাকেও হার মানায়।”
বিশ্ব নদী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও ধরা সিলেট শাখার উদ্যোগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের একটি রেস্তোরাঁর হলরুমে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, “নদীর অস্তিত্ব ছাড়া বাংলাদেশের অস্তিত্ব কল্পনা করা যাবে না। অথচ নদীকে নিশ্চিহ্ন করতে যা যা করা সম্ভব, সবই করা হচ্ছে। দখল–দূষণে সবাই একমত হলেও সংরক্ষণ নিয়ে কথা বলার লোক কম। সিলেট অঞ্চলে প্রায় আড়াই শ নদী থাকলেও প্রতিটির অবস্থা সংকটাপন্ন। আমরা একটি নদীও দেখাতে পারব না, যেটি দখল বা দূষণের শিকার হয়নি। আমাদের টিকে থাকার জন্যই এসব নদ–নদী সংরক্ষণ করতে হবে।”
‘আমাদের নদী, আমাদের অস্তিত্ব’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সভায় “সুরমা নদী খননসহ সিলেটের নদ–নদী সংরক্ষণ” শীর্ষক আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার আব্দুল করিম কিম। বিশেষ আলোচক ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ, সাংস্কৃতিক সংগঠক শামসুল বাছিত শেরো এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের প্রফেসর ড. আলী ওয়াক্কাস সোহেল।
আলোচনায় আরও অংশ নেন প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী, সমাজকর্মী অরুপ শ্যাম বাপ্পী, রেজাউল কিবরিয়া, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তানভীর ইসলাম, হাওর কালচার স্টাডি অ্যান্ড রিসার্চ একাডেমির চেয়ারম্যান সজল কান্তি সরকার, প্রকাশক রাজিব চৌধুরী, সোহাগ তাজুল আমিন, ফারুক আহমেদ মনি, শামসুল আলম জাকারিয়া, নাট্যকর্মী নাহিদ পারভেজ বাবু, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সিলেট মহানগরের সভাপতি তানজিনা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক আয়েশা আখতার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, অবিলম্বে সিলেটে সুরমা নদীর খনন কাজ শুরু করতে হবে, বাসিয়া নদীর দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে এবং সীমান্ত নদী থেকে নির্বিচারে বালি উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। “আমাদের নদী আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বাংলার জীবন নদী ছাড়া অচল। তাই এই অনবদ্য প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নিজ নিজ এলাকার নদী নিয়ে কথা বলতে হবে, নদীর ওপর অন্যায় প্রতিরোধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।”
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, সিলেট অঞ্চলের অধিকাংশ নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। নদীগুলো দূষিত হচ্ছে। নাগরিক বর্জ্যে সুরমার তলদেশ ভরাট হয়েছে, শুষ্ক মৌসুমে সেখানে প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য দৃশ্যমান হয়। তাঁরা সরকারের কাছে এবারের শুষ্ক মৌসুমেই বিজ্ঞানভিত্তিক ও কার্যকর উপায়ে সুরমা নদীর খনন শুরু করার দাবি জানান।
খবরওয়ালা/এমএজেড