খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
দেশে সেপ্টেম্বরে গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে ধর্ষণের ঘটনা ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা। মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের (এমএসএফ) মাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর ও নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি এই প্রতিবেদনটি মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, গণপিটুনি ও মব সহিংসতার মতো আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। নিহত ও আহতের সংখ্যা বৃদ্ধিতে নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা আরও প্রকট হচ্ছে। সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতা এ পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তুলেছে।
এমএসএফের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ সাইদুর রহমান বলেন, ‘মব সন্ত্রাসের বিপরীতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতা চরমে পৌঁছেছে। কিছু ক্ষেত্রে মব সন্ত্রাসে সরকারের উসকানিও আছে বলে মনে হয়েছে।’
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আগস্টে গণপিটুনিতে নিহতের সংখ্যা ছিল ২৩ জন, সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৪ জনে। এমএসএফ মনে করে, ‘আইন হাতে তুলে নেওয়ার’ এই প্রবণতা বিচারহীনতা ও মানবিক মূল্যবোধের পতনের ভয়াবহ সংকটকে সামনে এনেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি উদাহরণ টেনে প্রতিবেদনে বলা হয়, চুরির সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে পুলিশের হেফাজতে চার দিন কাটানোর পর এক যুবকের মৃত্যু ঘটে হাসপাতালে। এই ঘটনা দেখায়, সহিংসতা শুধু গণপিটুনিতেই সীমিত থাকছে না, রাষ্ট্রীয় হেফাজতেও এর ধারাবাহিকতা দেখা যাচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৩-এ, যা আগস্টে ছিল ৪৭। এর মধ্যে দলবেঁধে ধর্ষণ হয়েছে ১৩টি এবং ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা ঘটেছে তিনটি।
অন্যদিকে, সেপ্টেম্বরে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা রেকর্ড হয়েছে ২৯টি, যেখানে আগস্টে এমন ঘটনা ঘটেনি। মাজার ও আখড়ায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ১৬টি। এছাড়া জাতিগত সংখ্যালঘুদের ১২টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর বা অগ্নিসংযোগের শিকার হয়েছে। খাগড়াছড়িতে বিক্ষোভরত তিনজন সংখ্যালঘু যুবককে গুলি করে হত্যার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে।
সংগঠনটির মতে, গণপিটুনির মতো অপরাধ বন্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে হেফাজতে মৃত্যু, ধর্ষণ ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের মতো সব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে এমএসএফ।
খবরওয়ালা/এন