খবরওয়ালা স্পোর্টস ডেস্ক:
প্রকাশ: 17শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশি বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি পাকিস্তানি ব্যাটাররা। নাহিদা-রাবেয়াদের ঘূর্ণিতে দেড়শ রানও করতে পারেনি তারা। বোলারদের গড়ে দেওয়া শক্ত ভিতে দাঁড়িয়ে ছড়ি ঘুরিয়েছেন টাইগ্রেস ব্যাটাররা। বিশেষ করে রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক। তরুণ এই ওপেনারের দুর্দান্ত ফিফটিতে ৭ উইকেটের ব্যবধানে জয় পেয়েছে নিগার সুলতানাদের দল। এটি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাংলাদেশের মেয়েদের মাত্র দ্বিতীয় জয় হলেও এসেছে একেবারে দাপটের সঙ্গে।
কলম্বোয় ম্যাচের এক অর্ধেই জয়ের পথটা মসৃণ করে দিয়েছিলেন বোলাররা। তিন আক্তার—মারুফা, নাহিদা, স্বর্নার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে পাকিস্তান ১২৯ রানে অলআউট হয়ে গেলে ১৩০ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। যে লক্ষ্যটাকে মামুলি বানিয়ে ১১৩ বল ও ৭ উইকেট অক্ষত রেখেই জিতে যায় বাংলাদেশ (১৩১/৩)।
লক্ষ্যতাড়ায় বাংলাদেশ অবশ্য দলীয় ৭ রানে ফারজানা হক (২) ও ৩৫ রানে শারমিন আক্তারকে (১০) হারিয়ে ফেলেছিল। এরপরই অভিষিক্ত রুবাইয়া হায়দারকে নিয়ে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির প্রতিরোধ। ৭৭ বলে ৬২ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। ৪৪ বলে ২৩ রান করে বাংলাদেশ অধিনায়ক জ্যোতি পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানার বলে আউট হয়ে গেলে ভাঙে এই জুটি। ৬৪ বলে ৫০ ছুঁয়ে ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন রুবাইয়া। আয়েশা রহমান ও শারমিন আক্তার সুপ্তার পর ওয়ানডে অভিষেকে ফিফটি করা বাংলাদেশের তৃতীয় ব্যাটার তিনি। ৭৭ বলে খেলা তাঁর ইনিংসটিতে আছে ৮টি চার। ১৯ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন সোবহানা মোস্তারি।
নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপের শুরুটা জয় দিয়েই করতে চেয়েছিল বাংলাদেশ। দলের এই চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই বল হাতে পারফর্ম করেন বোলাররা। প্রথম ওভারের শেষ দুই বলে উইকেট তুলে নেন মারুফা। ফিরিয়ে দেন ওমাইমা সোহেল ও সিদরা আমিনকে। ব্যক্তিগত রানের খাতা খোলার আগেই যখন এই দুই ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন স্কোরবোর্ডে তখন পাকিস্তান নারী দলের রান—২ উইকেটে ২!
শুরুতেই এমন ধাক্কায় শ্লথ হয়ে যায় পাকিস্তানের রান তোলার গতি। প্রথম পাওয়ার প্লেতে আর কোনো উইকেট না হারালেও ১০ ওভারে আসে মাত্র ৪১ রান। শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে এরপর যখন রানের চাকা সচল করার তাগিদ তখনই বাধা হয়ে দাঁড়ান নাহিদা। ফিরিয়ে দেন মুনিবা আলী (১৭) ও রামিন শারমিনকে (২৩)। আউট হওয়ার আগে তৃতীয় উইকেটে ৬৩ বলে ৪২ রান যোগ করেন তারা।
এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকেন পাকিস্তানের মেয়েরা। ৭ নম্বরে ব্যাটিংয়ে এসে অধিনায়ক ফাতিমা সানা ৩৩ বলে ২২ রান করলেও ১২৯ রানে থেমে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। মারুফা আক্তার ও নাহিদা আক্তারের পর আরেক আক্তার স্বর্না তাঁর দুর্বোধ্য স্পিনে ৩ উইকেট তুলে নিলে পাকিস্তানের ৩৮.৩ ওভারেই অলআউট।
কিপটে বোলিংয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন স্বর্না; তাঁর বোলিং বিশ্লেষণ—৩.৩-৩-৫-৩!
খবরওয়ালা/এসআর