খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, তেহরান থেকে দেশের প্রশাসনিক কেন্দ্র অন্যত্র স্থানান্তর করা এখন বাধ্যতামূলক।
তিনি সতর্ক করেছেন, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, ভয়াবহ পানি সংকট এবং ভূমিধসের হুমকি শহরটিকে দীর্ঘমেয়াদে অযোগ্য করে তুলতে পারে।
পেজেশকিয়ান বলেন,“তেহরান, কারাজ ও কাজভিনসহ আশপাশের অঞ্চলে পানি সংকট চরমে পৌঁছেছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর সমাধান হয়নি।” গত বছরই রাজধানী স্থানান্তরের প্রস্তাব সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কাছে তোলা হয়েছিল, কিন্তু তখন তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। এখন সংকট এত গভীর হয়ে গেছে যে আর দেরি করা সম্ভব নয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন,“অযথা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হলে শেষ পর্যন্ত ধ্বংস ছাড়া কিছুই বাকি থাকবে না। ইতিমধ্যেই তেহরানের কিছু এলাকায় বছরে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভূমিধস হচ্ছে।”
নতুন প্রশাসনিক কেন্দ্র পারস্য উপসাগর তীরবর্তী দক্ষিণাঞ্চলে হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট। এই অঞ্চলের সরাসরি সমুদ্রবন্দর সুবিধা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সহজ করবে এবং দেশের অর্থনীতিকে ত্বরান্বিত করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানী স্থানান্তর শুধুমাত্র প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়; এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা‑সংক্রান্ত জটিল চ্যালেঞ্জও তৈরি করবে। নতুন কেন্দ্রে সরকারি দপ্তর, নাগরিক পরিষেবা ও অবকাঠামো পুনর্বিন্যাস করতে হবে, যা বিশাল বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন করবে।
পেজেশকিয়ান মনে করছেন, যদি জল সংরক্ষণ ও প্রশাসনিক সংস্কার দ্রুত কার্যকর না হয়, তবে রাজধানী স্থানান্তর ছাড়া বিকল্প থাকবে না।
খবরওয়ালা/আশ