খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশের নারী জাগরণ ও তৃণমূল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অগ্রদূতদের মধ্যে অন্যতম নাম রোকেয়া রহমান কবির। তিনি ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, সমাজসেবক ও নারী উন্নয়নের নিবেদিত প্রাণ কর্মী।
১৯২৫ সালের ৪ অক্টোবর কলকাতায় তাঁর জন্ম। পিতা মুজিবুর রহমান ছিলেন তৎকালীন ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (আইসিএস) কর্মকর্তা, মাতা জোহরা খাতুন। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগের পর পরিবারসহ তিনি বাংলাদেশে চলে আসেন।
রোকেয়া রহমান কবিরের শিক্ষাজীবন শুরু হয় কলকাতার শিয়ালদহ লরেটো কনভেন্টে। পরবর্তীতে লেডি ব্র্যাবোর্ন কলেজ থেকে ভূগোলে স্নাতক এবং কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি চট্টগ্রামের এক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তীতে ইডেন মহিলা কলেজে ইতিহাস বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
কিন্তু তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি কেবল পাঠদানে। সরকারি চাকরি ত্যাগ করে তিনি নিজেকে উৎসর্গ করেন তৃণমূল নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে। এই লক্ষ্যেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘সপ্তগ্রাম নারী স্বনির্ভর পরিষদ’—যা নারীদের কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ ও স্বনির্ভরতার কেন্দ্র হয়ে ওঠে।
নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার জন্য তিনি ‘সপ্তগ্রাম সিল্ক উৎপাদন কেন্দ্র’ নামে একটি উদ্যোগ নেন, যেখানে সিল্ক থেকে সুতা, কাপড় ও পোশাক উৎপাদনের ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে এই প্রকল্পটি ব্র্যাক অধিগ্রহণ করে এবং এখান থেকেই আজকের ‘আড়ং’-এর ধারণার সূচনা ঘটে।
তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজবাড়ী জেলার বিসিক শিল্পনগরীতে ব্র্যাক-এর এক শিল্প প্রতিষ্ঠান তাঁর নাম অনুসারে ‘রোকেয়া রহমান কবির মহিলা উন্নয়ন প্রকল্প’ নামে পরিচিত হয়েছে — যা তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শেরই এক জীবন্ত প্রতীক।
নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মনির্ভরতা ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার অগ্রদূত এই মহীয়সী নারী ২০০০ সালের ২৮ জুলাই পরলোকগমন করেন।
কিন্তু তাঁর কর্ম, আদর্শ ও প্রেরণা আজও বাংলাদেশের নারী উন্নয়নের প্রতিটি অধ্যায়ে দীপ্তিমান হয়ে আছে।