খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে আশ্বিন ১৪৩২ | ৬ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
অন্তর্বর্তী সরকারের এক বছরে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বেশ কিছু সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে।
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ) প্লট বরাদ্দে বৈষম্যমূলক কোটা বাতিল, দুর্নীতি তদন্ত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বরাদ্দ বাতিল, শহীদ পরিবারের আবাসন প্রকল্প এবং নতুন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে মধ্যবিত্ত নাগরিকদের জন্য বাস্তবিক কোনো কার্যকর উদ্যোগ এখনও নেই। ফলে তাদের আবাসনের স্বপ্ন পূরণে হতাশা আগের মতোই রয়ে গেছে। এই বাস্তবতায় আজ সোমবার পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব বসতি দিবস’।
১৯৮৫ সালে জাতিসংঘ নিরাপদ নগর ও মানসম্মত বাসস্থান বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে দিবসটি পালনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ১৯৮৬ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এটি উদ্যাপিত হয়ে আসছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, “অর্থশালী মানুষ আবাসন খাতকে নিরাপদ ও লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে দেখে। অনিয়ম বা অসদুপায়ে উপার্জিত অর্থও এখানে বিনিয়োগ হচ্ছে। ফলে মাসিক ভাড়া থেকে তারা বড় আয় পাচ্ছেন। কিন্তু ভাসমান বা বস্তিবাসীদের জন্য কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই। প্রকল্পের কথা শোনা গেলেও বাস্তবায়ন দেখা যায় না।”
রাজউক সূত্র জানায়, পূর্বাচল, ঝিলমিল ও উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পগুলোতে রাজনৈতিক বিবেচনায় ও লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উচ্চমূল্যের কারণে নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে রয়ে গেছে। ফলে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও সম্পদশালী ব্যক্তিরাই এসব প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন।
‘জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভাসমান মানুষের সংখ্যা ২২,১১৯ এবং বস্তিতে বাস করছে প্রায় ১৮ লাখ ৪৮৬ জন। তারা মূলত শহর ও উপশহরে টিনশেড বা ঘিঞ্জিপাকা ঘরে বসবাস করছে।
বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘আরবান ক্রাইসিস রেসপন্স’ বাংলায় ‘পরিকল্পিত উন্নয়নের ধারা, নগর সমস্যায় সাড়া’বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।”
খবরওয়ালা/আশ