খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
ইংলিশ লিগের ফুটবলার হামজা চৌধুরী জীবনে বহুবার বাংলাদেশ সফর করেছেন। তবে গত মার্চে জাতীয় দলের জার্সি গায়ে মাঠে নামা হামজা ছিলেন সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপে। তখন থেকেই তাকে ঘিরে দেশের ক্রীড়ামহলে তৈরি হয় আলোড়ন। এক রাতেই তিনি হয়ে ওঠেন সবার আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। যদিও মাঠের ফল প্রত্যাশিত ছিল না, তবুও হামজার উপস্থিতিতে ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ হয়। জাতীয় দলের অনুশীলন শুরু হলেই সবার দৃষ্টি যায় তার দিকেই।
গতকাল সকালে ঢাকায় এসে সরাসরি হোটেলে ওঠেন হামজা। বিকেলেই নেমে পড়েন অনুশীলনে—ক্লান্তির ছাপ নেই। অনেকে দীর্ঘ ভ্রমণের পর বিশ্রাম নেন, কিন্তু হামজা যেন অন্য মানুষ। দীর্ঘ বিমানযাত্রার পরও বিশ্রাম না নিয়ে অনুশীলনে নামায় বিস্মিত সবাই।
হামজাকে ঘিরে সংবাদমাধ্যমও ছিল তৎপর। সাংবাদিকরা আশা করেছিলেন, প্রথম দিনের অনুশীলনের আগে তিনি কথা বলবেন মিডিয়ার সঙ্গে। হামজার বক্তব্য পাওয়া গেলে সেটি হতো বড় খবর। কিন্তু বাফুফে তাকে আড়ালে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে আলোচনা থেকে মূল বিষয়টি সরে যায়।
প্রতিদিনের মতো খেলোয়াড়রা ড্রেসিং রুম থেকে বাম দিক দিয়ে মাঠে প্রবেশ করার কথা ছিল। সাংবাদিকরাও দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই খেলোয়াড়দের অন্যদিক দিয়ে মাঠে পাঠানো হয়। কেন এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো, তার কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবারের বাংলাদেশ–হংকং ম্যাচ সামনে রেখে এমন সময়ে হামজাকে আড়ালে রাখার কোনো যুক্তি নেই। বাফুফে জানায়, কেউই কথা বলবেন না—হামজাও না। অথচ ফটোসাংবাদিকদের ডাকে সাড়া দিতে গিয়েও হামজা থেমে যান এবং ফিরে যান মাঠে। ভদ্র ও বিনয়ী হামজা বড়দের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, নিয়ম মানায়ও আগ্রহী।
তবু অজানা কারণে বাংলাদেশ ফুটবলের এই তারকাকে ঘিরে তৈরি হলো এক অদৃশ্য বাধা। সাংবাদিকরা বলছেন, ফুটবলের এমন মুহূর্তে বাফুফের এই গোপনীয়তা অযৌক্তিক। তারা বুঝতে পারেনি, সংগঠনের দক্ষতা দিয়ে জনপ্রিয়তাকে কীভাবে কাজে লাগাতে হয়।
খবরওয়ালা/টিএসএন