খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল— লালদিয়া, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও বে টার্মিনাল— বিদেশি অপারেটরদের হাতে যেতে যাচ্ছে। এসব টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে সরকার।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ জানিয়েছেন, লালদিয়া টার্মিনাল ৩০ বছরের জন্য এবং এনসিটি ও বে টার্মিনাল ২৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরদের হাতে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে।
গতকাল রবিবার ঢাকায় ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘সমুদ্রগামী জাহাজ শিল্পে বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব তথ্য জানান। পল্টনে ইআরএফ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি দৌলত আক্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সমুদ্রগামী জাহাজ মালিক সমিতির সভাপতি আজম জে চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার, এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
জ্যেষ্ঠ সচিব ইউসুফ বলেন, “২০২০ সালে সরকার চট্টগ্রাম বন্দর বিষয়ে পরামর্শ দিতে বিদেশি কনসালট্যান্ট নিয়োগ দেয়। ছয় মাস আগে আমরা তাদের প্রতিবেদন পেয়েছি।” তিনি আরও জানান, “১৯৮৬ সালের পর এবারই প্রথম বন্দর ব্যবহারে মাশুল বাড়ানো হয়েছে। প্রায় ৪০ বছরে এটা বাড়ানো হয়নি— তাই এখন কমানোর সুযোগ নেই। পাঁচ বছর পরপর মাশুল সমন্বয় হওয়া উচিত ছিল।”
বিদেশি অপারেটর নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “চট্টগ্রামের তিনটি কনটেইনার টার্মিনালের দক্ষতা বাড়িয়ে লিড টাইম কমাতে আন্তর্জাতিক অপারেটর ছাড়া বিকল্প নেই। তাই ২০ থেকে ৩০ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে। আশা করছি, ডিসেম্বরের মধ্যেই এই চুক্তি সম্পন্ন হবে। প্রয়োজনে এসব চুক্তি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারত ও শ্রীলঙ্কাসহ অনেক দেশেই এরকম অপারেটর মডেল চালু আছে।
বাংলাদেশ সমুদ্রগামী জাহাজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আজম জে চৌধুরী বলেন, “জাহাজ খাতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অবকাশ সুবিধা থাকার কারণে বাংলাদেশি জাহাজের সংখ্যা বেড়েছিল। কিন্তু সরকার তা বাতিল করায় সাড়ে তিন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এখন চ্যালেঞ্জে পড়েছে।” তিনি কর অবকাশ পুনর্বহালের দাবি জানান।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার বলেন, “পোশাক খাতের বাইরে অন্তত চার-পাঁচটি খাত এক বিলিয়ন ডলারের বেশি রপ্তানি করছে। ভবিষ্যতে জাহাজ নির্মাণশিল্পেও একই সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি ও পর্যাপ্ত অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।”
খবরওয়ালা/এমএজেড