খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কবে দেশে ফিরবেন—এই প্রশ্ন দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তাঁর ফেরাকে ঘিরে জল্পনা-কল্পনা আরও বেড়েছে। এবার সেই জল্পনায় নিজেই সাড়া দিয়েছেন তারেক রহমান।
সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, খুব শিগগিরই তিনি দেশে ফিরবেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাঁর এই ঘোষণার পর থেকেই বিএনপির ভেতরে ও বাইরে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী নভেম্বরে তারেক রহমানের দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এ উপলক্ষে বড় আয়োজনের প্রস্তুতিও চলছে।
দলটির নেতারা মনে করছেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি আনবে। তাঁর নেতৃত্বে সরাসরি মাঠে নামলে দল আবারও ঐক্যবদ্ধ হবে এবং নির্বাচনে জয়লাভের সম্ভাবনাও বাড়বে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘যখন খালেদা জিয়া রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন, তখন তাঁর প্রভাবেই ভোট প্রভাবিত হয়েছে। এখন তারেক রহমান দেশে ফিরলে জনগণের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা আসবে, সেটারও প্রভাব পড়বে ভোটের ওপর।’
তবে বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে ‘তারেক ইমেজ’ ব্যবহার করতে চাইছে বিএনপি, কিন্তু দলটির জন্য ‘হাওয়া ভবনের মেমোরি’ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘মানুষ বিএনপির শাসনামল প্রত্যক্ষ করেছে। এখনো “হাওয়া ভবনের” স্মৃতি ভোটারদের মনে রয়ে গেছে। তাই যদি বিএনপি মনে করে তারেক রহমানকে কেন্দ্র করেই বিজয় আসবে, তাহলে দলকে অবশ্যই সেই অতীত ভাবমূর্তির বাইরে আসতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান দেশে ফিরলে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বেপরোয়া আচরণের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যদি সবাই ধরে নেয় বিএনপি নিশ্চিতভাবে জিতছে, তাহলে সেটা দলীয় শৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।’
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তারেক রহমানের ফেরা শুধু বিএনপির ভেতরেই নয়, দেশের বৃহত্তর রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে। ব্যবসায়ী, সিভিল সোসাইটি ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকেও বিএনপির দিকে ঝুঁকতে পারে অনেকেই। তবে সেই পরিস্থিতি কীভাবে সামলাবেন তারেক রহমান, সেটিই হবে তাঁর নেতৃত্বের প্রথম বড় পরীক্ষা।
সবমিলিয়ে সতেরো বছর পর তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে। তবে সেই অধ্যায় কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কৌশল, নেতৃত্বের ধরণ এবং অতীতের ‘হাওয়া ভবনের’ ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে নতুন নেতৃত্বের রূপ দিতে পারার ওপর।