অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে কার্তিক ১৪৩২ | ২০ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের মূল্য বেড়ে ২ লাখ ১৭ হাজার ৩৮১ টাকা হয়েছে। আজ সোমবার থেকে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) ঘোষিত নতুন দর কার্যকর হবে। বাজুসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন দর অনুযায়ী প্রতি ভরিতে স্বর্ণের দাম বেড়েছে ১ হাজার ৪৯ টাকা।
দেশে স্বর্ণের দাম টানা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রায় প্রতি সপ্তাহে নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। শুধু সেপ্টেম্বরে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের ভরিপ্রতি দাম বেড়েছে ১৬ হাজার টাকার বেশি। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক স্বর্ণবাজারের প্রভাব, টাকার দর কম, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতি স্বর্ণের দামের বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
যদিও বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে স্বর্ণ আমদানি করে না, তবুও বিশ্ব বাজারে স্বর্ণের মূল্যের ওঠা-নামার সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্থানীয় বাজারেও দাম পরিবর্তিত হয়। ২০১৮ সালের স্বর্ণ নীতিমালা অনুযায়ী, দেশে স্বর্ণের বার্ষিক চাহিদা ২০ থেকে ৪০ টনের মধ্যে। তবে শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই চোরাকারবারের মাধ্যমে মেটানো হয়, যার ফলে সরকার বড় আকারে রাজস্ব আদায় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে সোনার যত্ন জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়িতে থাকা সোনা দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে তার অবস্থা খেয়াল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিছু বিষয় নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন:
চকচকে রাখা: দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করলে সোনা দাগ বা কালচে হতে পারে। হালকা নরম কাপড় দিয়ে ঘষে চকচকে রাখা যায়।
ক্ষতি ও ফাটল পরীক্ষা: ছোট ফাটল বা ভাঙচুর থাকলে তা সময়মতো ঠিক করা উচিত।
নিরাপদ সংরক্ষণ: আর্দ্রতা ও রোদ এড়াতে সোনা সিল করা লকবক্সে, নিরাপদ আলমারিতে বা ব্যাংকের সেফ ডিপোজিটে রাখাই ভালো।
মূল্য যাচাই: বাজার মূল্য ও শংসাপত্র নিয়মিত যাচাই করে রাখা প্রয়োজন।
ইতিহাসে স্বর্ণের দাম
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বর্ণের দাম প্রতি ভরিতে ১৭০ টাকা ছিল। ১০ বছরের মধ্যে তা বেড়ে ৩ হাজার ৭৫০ টাকা, ২০০০ সালে ৬ হাজার ৯০০ টাকা এবং ২০১০ সালে ৪২ হাজার ১৬৫ টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ভরিতে দাম ৫০ হাজার টাকা ছাড়ায়। এরপর পাঁচ বছর পর, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে দাম ১ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে চলে যায়। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেড় লাখ টাকা ছাড়িয়ে এবং পরবর্তীতে ২ লাখ টাকার ঘরানা অতিক্রম করে।
শিল্প সংশ্লিষ্টরা মনে করিয়ে দেন, সোনা শুধু সাজসজ্জার জিনিস নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদ বিনিয়োগও। তাই দাম বাড়ার এই সময়ে সোনার নিরাপত্তা ও নিয়মিত যত্ন অপরিহার্য।
খবরওয়ালা/শরিফ