অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ অক্টোবর ২০২৫
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের বিশ্ববিখ্যাত ল্যুভর মিউজিয়াম থেকে চুরি হওয়া গয়নাগুলোর মোট মূল্য ১০২ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১২ হাজার ৪৬০ কোটি ২৩ লাখ ৮৪ হাজার টাকা) বলে জানিয়েছেন দেশটির এক প্রসিকিউটর। মিউজিয়ামের কিউরেটরের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি এই তথ্য জানান।
আরটিএল রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রসিকিউটর লরা বেকো বলেন, চুরি যাওয়া অঙ্কটি বিশাল। তবে শুধু অর্থমূল্যই নয়, এসব গয়না ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে অমূল্য।
তিনি আরও বলেন, এসব গয়নার মূল্য ঘোষণা করা হলো এই ভেবে যে, মূল্য জানলে চোরেরা আশা করছি গয়নাগুলো ভাঙা বা নষ্ট করার আগে দ্বিতীয়বার ভাববে।
প্রসিকিউটর বেকো আরও সতর্ক করে বলেন, এসব গয়না গলানোর বা ভাঙার চিন্তা করাটা খুবই খারাপ হবে। তবে গয়না নিজেদের কাছে রাখা তাদের জন্য সহজ হবে না।
চুরি হওয়া গয়নাগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৮১০ সালে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের দ্বিতীয় স্ত্রী মারি-লুইজকে উপহার দেওয়া একটি দুর্লভ পান্না হার, যাতে ছিল ৩২টি পান্না ও ১,১৩৮টি হীরা। একই সেটের একটি কানের দুলের জোড়াও চুরি হয়েছে।
আরেকটি মূল্যবান চুরি হওয়া গয়না হলো সম্রাজ্ঞী ইউজেনির (তৃতীয় নেপোলিয়নের স্ত্রী) একটি টায়রা, যাতে বসানো ছিল ২১২টি মুক্তা ও প্রায় ৩ হাজার হীরা। এ ছাড়া চুরি গেছে ২ হাজার ৪০০ হীরায় সাজানো একটি বেল্ট এবং ১৮৫৫ সালের একটি সাদা হীরার ব্রোচ।
চোরেরা আরও নিয়ে গেছে ফ্রান্সের শেষ রানি মেরি-অমেলির একটি নীলকান্তমণির টায়রা, যাতে ছিল ২৪টি নীলকান্তমণি ও ১,০৮৩টি হীরা। টায়রাটির সঙ্গে থাকা একটি হার ও দুলের জোড়া থেকেও একটি দুল চুরি হয়েছে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ জানায়, মাত্র ৭ মিনিটের মধ্যে এই দুঃসাহসিক চুরি সংঘটিত হয়। চোরেরা ‘চেরি পিকার’ (ট্রাকের ওপর বসানো হাইড্রোলিক মই) ও ‘অ্যাঙ্গেল গ্রাইন্ডার’ ব্যবহার করে জাদুঘরের জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা ল্যুভরের বিখ্যাত ‘অ্যাপোলো গ্যালারি’তে ঢুকে পড়ে।
ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নিউনে বলেন, এটি নিঃসন্দেহ যে চোরেরা আগেই জাদুঘরটি ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে।
চুরির ঘটনার পর সম্রাজ্ঞী ইউজেনির একটি রাজমুকুট জাদুঘরের বাইরে পড়ে থাকতে দেখা যায়। মোটরসাইকেলে চড়ে পালানোর সময় চোরেরা এটি ফেলে যায়। ৫৬টি পান্না ও ১,৩৫৪টি হীরায় অলংকৃত রাজমুকুটটি বর্তমানে পরীক্ষাধীন রয়েছে।
প্রত্নতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যত দ্রুত সম্ভব গয়নাগুলো উদ্ধার না করা গেলে সেগুলো চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। তাদের মতে, মূল্যবান ধাতু ও রত্ন ভেঙে দেশের বাইরে পাচার করার ঝুঁকি রয়েছে।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে, প্যারিসের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি থেকে একটি সোনার রেপ্লিকা চুরি হয়, আর লিমোজের এক জাদুঘর থেকে হারিয়ে যায় ৬৫ লাখ ইউরো মূল্যের পোর্সেলিন।