খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর পর্যন্ত যে কোনো সময় কারও কষ্ট বা ক্ষতি হয়ে থাকলে তার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (২২ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই বক্তব্য দেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১৯৪৭ থেকে আজকের দিন পর্যন্ত আমাদের দ্বারা যে যেখানে, যেভাবে কষ্ট পেয়েছেন— আমরা বিনাশর্তে সবার কাছে ক্ষমা চাই। জামায়াত ইসলামীর পক্ষ থেকে এটি আমার তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা। এর আগে অধ্যাপক গোলাম আজম, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এবং আমি নিজেও এভাবে ক্ষমা চেয়েছি। সম্প্রতি এটিএম আজহার জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পরও একই কথা বলেছিলাম। আজ আবারও বলছি— ব্যক্তি হোক বা সংগঠন, জাতি হোক বা কোনো গোষ্ঠী— আমাদের কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমরা আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বলব কীভাবে যে কোনো ভুল করিনি? শত সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি ভুল সিদ্ধান্তও জাতির ক্ষতি করতে পারে। তাই যদি আমার বা আমাদের কোনো সিদ্ধান্তে কারও ক্ষতি হয়ে থাকে, তার জন্য ক্ষমা চাওয়াতে আপত্তি কোথায়?”
জামায়াত আমির বলেন, “অনেকে বলেন— এইভাবে নয়, ওইভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। আমি স্পষ্টভাবে বলছি— বিনাশর্তে মাফ চাইলাম, কোনো শর্ত রাখিনি। ১৯৪৭ থেকে ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের দ্বারা যারা কষ্ট পেয়েছেন, তাদের কাছে আমি নিঃশর্তভাবে মাফ চাই। দেশেও আমি এই ক্ষমা প্রার্থনা করেছি, শুধু নিউইয়র্কে নয়।”
এসময় তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংস্কার ও বিভিন্ন ইস্যুতে গণভোটের দাবি জানান।
নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজার আগে নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই।”
সংখ্যালঘুদের বিষয়ে তিনি বলেন, “জামায়াত যদি ক্ষমতায় আসে, তবে সাংবিধানিক অধিকার অনুযায়ী সংখ্যালঘুরা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে।”
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “ভারতের সঙ্গে সমতা ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক চায় জামায়াত।”
খবরওয়ালা/এমএজেড