খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
সম্প্রতি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। তবে কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, পুরো কার্গো ভিলেজের জন্য বিমা কভার মাত্র ২০ লাখ টাকা, ফলে ক্ষতির পরিমাণ বিপুল হলেও বেবিচক সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকার বিমা দাবি করতে পারবে।
আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের বিমা পরিস্থিতি
অগ্নিকাণ্ডে ধ্বংস হওয়া আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রে সাধারণত আমদানিকারকরা খরচ কমানোর কারণে পণ্য সরবরাহকারীর দেশেই বিমা করান। আর রপ্তানি পণ্যের জন্য বাংলাদেশে বিমা করা বাধ্যতামূলক নয়। ফলে, কার্গো ভিলেজে ধ্বংস হওয়া আমদানিকৃত পণ্যের জন্য বিমা দাবি বৈদেশিক বিমা কোম্পানির মাধ্যমে করতে হবে।
বিমা প্রতিষ্ঠান ও আইডিআরএর ব্যাখ্যা
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) জানিয়েছে, তারা শীঘ্রই স্থানীয় বিমা কোম্পানিগুলোকে চিঠি পাঠিয়ে জানতে চাইবে কার্গো ভিলেজের জন্য কোনো পলিসি ইস্যু করা হয়েছে কি না এবং মোট দাবির পরিমাণ কত। আইডিআরএ বৈধ দাবিগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেবে।
সাধারণ বীমা করপোরেশনের (এসবিসি) জেনারেল ম্যানেজার এস এম শাহ আলম জানিয়েছেন, কার্গো ভিলেজের একটি ছোট অংশের জন্যই বিমা করা হয়েছে, যার কভারেজ মাত্র ২০ লাখ টাকা। তিনি আরও বলেন, সাধারণত অগ্নি বিমা হলে বিমা কোম্পানি প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করে, তবে বাংলাদেশে কোনো আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকায় এসবিসি আগে বেবিচকের গুদামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করেনি।
ব্যবসায়ীদের বিপুল ক্ষতি
এক সংবাদ সম্মেলনে এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (EAB) এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডে রপ্তানিকারকরা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি করেছেন। বাংলাদেশ ঔষধ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, ৩২টি ঔষধ কোম্পানির ২০০ কোটি টাকার কাঁচামাল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।
কার্গো ভিলেজের কার্যক্রম
কার্গো ভিলেজ আমদানি ও রপ্তানি পণ্য ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সমন্বিত হাব হিসেবে কাজ করে। এখানে পণ্য ওঠানো-নামানো, পরিদর্শন, প্যাকেজিং, সংরক্ষণ ও কাস্টমস ছাড়পত্র দেওয়া হয়। ফলমূল ও সবজির মতো পচনশীল পণ্য ২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ছাড় দেওয়া হয়, আর তৈরি পোশাক সাধারণত ২–৩ দিনের মধ্যে রপ্তানি করা হয়। তবে কার্গো স্পেস সীমিত হওয়ায় রপ্তানি বিলম্বিত হতে পারে, এবং আমদানি পণ্যও প্রায়ই কাস্টমস ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষা করে।
উপসংহার
কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, সাম্প্রতিক আগুনে শত শত টন আমদানিকৃত পণ্য ধ্বংস হয়েছে, যার ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। যদিও ক্ষতির পরিমাণ হাজার কোটি টাকার, তবে বিমা কভার মাত্র ২০ লাখ টাকার কারণে বাস্তব ক্ষতিপূরণ খুব সীমিত হবে।
— খবরওয়ালা / এমএজেড