খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে কার্তিক ১৪৩২ | ২৫ই অক্টোবর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০০০ সালের আগে বড় হওয়া প্রজন্মের কাছে খেলার মাঠ ছিল দ্বিতীয় বাড়ি। স্কুল ছুটির পর ফুটবল, ক্রিকেট আর ব্যাডমিন্টনের শব্দে মুখর থাকত চারদিক। সূর্য ডোবা পর্যন্ত চলত খেলা, আর ঘামে ভেজা ধুলোমাখা শরীরে বাড়ি ফিরলে বকা খাওয়াই ছিল নিয়ম।
এখন সেই মাঠগুলো নীরব। নতুন শতাব্দীর শিশুরা আর মাঠে নয়, স্ক্রিনে বন্দী। তাদের তিরস্কার করা হয় ঘরে বসে থাকার জন্য, স্মার্টফোনে ডুবে থাকার জন্য। অথচ দোষ তাদের নয়—মাঠগুলো গিলে ফেলেছে কংক্রিটের দালান, শপিং মল আর অ্যাপার্টমেন্ট।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম—সবখানেই খোলা মাঠ কমে গেছে। অভিভাবকেরা আক্ষেপ করেন, এখন খেলার জায়গা নেই বলেই শিশুরা ঘরে বন্দী।
তবে এই অভাবই নতুন এক ব্যবসার জন্ম দিয়েছে—ফুটসাল।
২০০০ সালের পর শহরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে ফুটসাল নামের ছোট আকারের ফুটবল। খেলা হয় কৃত্রিম ঘাসে, ছাদে কিংবা অল্প জায়গায়।
রেজাউল ইসলাম, করপোরেট কর্মী, বলেন—“গ্রামে প্রতিদিন খেলতাম। ঢাকায় এসে ভেবেছিলাম খেলাধুলা শেষ। কিন্তু কৃত্রিম মাঠে ফুটসাল খুঁজে পেয়েছি সেই আনন্দ।”
তিনি যোগ করেন, “আমরা সাধারণত সন্ধ্যায় খেলি, কারণ দিনে রোদে খেলা কষ্টকর।”
অব্যবহৃত জায়গায় টার্ফ ও ফ্লাডলাইট বসিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়। প্রতি ৯০ মিনিটে খরচ দেড় হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত থাকে পিক আওয়ার।
চট্টগ্রামের ‘ইকো স্পোর্টস’-এর কর্ণধার মো. সাজ্জাদুল আলম বলেন, “মাঠের চাহিদা অনেক, কিন্তু মাঠ নেই বললেই চলে। তাই উদ্যোগ নিই। এখন প্রতিদিন ছয়-সাতটি ম্যাচ হয়।”
জমি, অবকাঠামো ও টার্ফসহ প্রাথমিক বিনিয়োগ লাগে প্রায় ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত। টার্ফের মান অনুযায়ী খরচ বাড়ে।
ঢাকায় এখন ২০টির বেশি বাণিজ্যিক টার্ফ আছে। বসুন্ধরার ‘অফসাইড’, ‘জাফ’, ‘দ্য স্টেডিয়াম’-এর মতো মাঠগুলো সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জমজমাট থাকে।
খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দর্শক ও পরিবারও অংশ নেন—ফুটসাল এখন বিনোদনের নতুন নাম।
খবরওয়ালা/টিএসএন