খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩ নভেম্বর ২০২৫
বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা আজ প্রকাশিত হতে পারে। এ উদ্দেশ্যে দুপুর ১২টায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, এই সংবাদ সম্মেলন থেকে গুরুত্বপূর্ণ অনেক ঘোষণা আসবে। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিশেষ সভা ডেকেছেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা ছাড়াও আজকের সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট করার বিষয়ও ঘোষণা করা হতে পারে। এছাড়া গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে বিরোধ কয়েকদিন ধরে দেখা দিয়েছে, তারও সমাধানের দিক নির্দেশ দেখা যাচ্ছে। সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এ বিষয়ে পর্দার আড়ালে আশার আলো আছে।
এদিকে, গণভোট ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে রোববার বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে তীব্র সমালোচনা লক্ষ্য করা গেছে। কেউ কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলেনি, বরং একপক্ষ অন্যপক্ষকে দায়ী করেছে। এই অবস্থায় মূল দ্বন্দ্ব গড়ে উঠেছে নোট অব ডিসেন্টে। অর্থাৎ, কমিশন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেও বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো আপত্তি জানিয়েছে। জুলাই সনদের ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ৬১টিতে কোনো না কোনো দলের নোট অব ডিসেন্ট আছে। এর মধ্যে মৌলিক ২০টি প্রস্তাবের ৯টিতে বিএনপির আপত্তি রয়েছে।
সূত্র জানাচ্ছে, জামায়াত এখনো জোরালো আপত্তি ও যুক্তি উপস্থাপন করলেও শেষ পর্যন্ত জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট মেনে নেবে।
জনস্বার্থের বিষয়গুলোতে নোট অব ডিসেন্ট: নোট অব ডিসেন্ট দেওয়া ৬১টি প্রস্তাবের মধ্যে কিছুতে পূর্ণাঙ্গ, কিছুতে আংশিক। যেমন, আগামী সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবে সব দল সম্মত, তবে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এটি পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতিতে হবে। পিআরের ব্যাপারে বিএনপির আপত্তি আছে। সনদে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়ে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, দুর্নীতি দমন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন, কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল, আইন কমিশন ও এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নিয়োগ সরকারের হাতে থাকবে না। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ছাড়াই বিশেষ সার্চ কমিটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি এগুলো নিয়োগ দেবেন। বিএনপি এখানে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একই ব্যক্তি সরকারপ্রধান, দলীয় প্রধান এবং সংসদনেতা থাকতে পারবেন না। এছাড়া আইনজীবীরা কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। এই দুই প্রস্তাবে বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকারের আর্থিক স্বাধীনতার প্রস্তাবে জামায়াত নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। যেসব সরকারি কর্মচারী স্থানীয় প্রশাসনের অধীনে কাজ করেন, তারা জনপ্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন—এতে আপত্তি জানিয়েছে জামায়াত। সংসদে নারী আসন সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে চরমোনাই ও খেলাফত নেজামে ইসলামের আপত্তি আছে। তবে এনসিপি কোনো প্রস্তাবে আপত্তি দেয়নি।
খবরওয়ালা/টিএসএন