খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ নভেম্বর ২০২৫
মাথাব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা হলেও, সাইনুসাইটিসজনিত ব্যথা অনেক সময়ই অসহনীয় হয়ে ওঠে। সাইনাস হলো মুখমণ্ডলের হাড়ের ভেতরে থাকা বায়ুভর্তি ছোট ছোট গহ্বর, যা সাধারণত বাতাস চলাচলের জন্য খোলা থাকে। সংক্রমণ বা অ্যালার্জির কারণে এই গহ্বরগুলো ফুলে গেলে ও শ্লেষ্মা জমে গেলে ভেতরে চাপ সৃষ্টি হয়, যা থেকে তীব্র মাথাব্যথা দেখা দেয়। তবে কিছু প্রমাণিত উপায়ে এই ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব, যা দৈনন্দিন জীবনে স্বস্তি এনে দিতে পারে।
সাইনুসাইটিসের মাথাব্যথার ধরন
এই ধরনের ব্যথা সাধারণত মুখমণ্ডল, কপাল, চোখের চারপাশ, গাল ও নাকের গোড়ায় অনুভূত হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর বা মাথা নিচু করলে ব্যথা আরও বাড়ে। তাই সাইনাসের জমাট কফ বের করে দেওয়া ও প্রদাহ কমানোর দিকেই মূলত মনোযোগ দিতে হয়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সাইনাসের ব্যথা উপশমের কিছু ঘরোয়া কার্যকর পদ্ধতি হলো—
১. আর্দ্রতা বজায় রাখা
গরম পানির ভাপ নেওয়া সাইনাসের কফ পাতলা করতে ও চাপ কমাতে কার্যকর। একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে মুখের ওপর তোয়ালে দিয়ে ঢেকে ভাপ নিতে পারেন। দিনে কয়েকবার এটি করলে আরাম মিলবে। এ ছাড়া কুসুম গরম পানিতে গোসল করাও উপকারী।
হালকা গরম সেঁক
নাক, কপাল ও গালের ওপর গরম, ভেজা কাপড় দিয়ে হালকা চাপ দিলে মাথার চাপ ও ব্যথা উপশম হয়।
পর্যাপ্ত পানি পান
প্রচুর পানি, গরম চা বা স্যুপের মতো তরল খাবার খেলে শ্লেষ্মা পাতলা হয় এবং সহজে বের হয়ে আসে।
২. নাকের যত্ন নেওয়া
লবণপানির নেজাল স্প্রে ব্যবহার করে নাক পরিষ্কার রাখলে শ্লেষ্মা বের হয়ে যায় ও ফোলাভাব কমে।
হিউমিডিফায়ার ব্যবহার
ঘর বা অফিসে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে বাতাসে আর্দ্রতা বজায় থাকে, ফলে সাইনাসের রাস্তাগুলো শুকিয়ে যায় না।
মাথা উঁচু করে ঘুমানো
রাতে বালিশ দিয়ে মাথা একটু উঁচু করে ঘুমালে শ্লেষ্মা সহজে বের হয় ও চাপ কমে।
৩. ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ
প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক ওষুধ সাইনাসের ব্যথা উপশমে কার্যকর।
ডিকনজেস্ট্যান্ট ওষুধ
এগুলো সাইনাসের ফোলাভাব কমিয়ে বাতাস চলাচল সহজ করে। তবে নেজাল স্প্রে তিন দিনের বেশি ব্যবহার করা ঠিক নয়, এতে উল্টো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৪. কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে
যদি কয়েক দিন পরও মাথাব্যথা না কমে, বরং আরও বেড়ে যায়, সঙ্গে জ্বর, দৃষ্টিশক্তি সমস্যা বা ঘাড়ে শক্ত ভাব দেখা দেয়—তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
এ ছাড়া নাক থেকে হলুদ বা সবুজ শ্লেষ্মা বের হলে সেটিও সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। এমন ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ হলে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হতে পারে।
খবরওয়ালা/টিএসএন