খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে চৈত্র ১৪৩২ | ২৪ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশে এখন “মামলা বাণিজ্য” ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি সামাজিক ন্যায়বিচার ও জনগণের বিশ্বাস ক্ষুণ্ণ করছে।
সোমবার (২৩ মার্চ) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের ইসলামপুরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি বলেন, “একই মামলায় শতাধিক মানুষকে আসামি করা হচ্ছে, এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ার পাশাপাশি নাম বাদ দেওয়ার জন্যও টাকা নেওয়া হচ্ছে। এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।” তিনি আরও বলেন, যারা সত্যিই অপরাধ করেছেন, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে, কিন্তু নিরপরাধদের কোনওভাবেই মামলা-মোকদ্দমার শিকার হওয়া উচিত নয়।
রুমিন ফারহানা সতর্ক করে বলেন, “এলাকায় মামলা বাণিজ্য চলতে দেওয়া হবে না। পুলিশ প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই নিশ্চিত করতে হবে। মিথ্যা মামলা যাতে কেউ ব্যবহার করতে না পারে, সেটি কঠোরভাবে রোধ করতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “শো-অ্যারেস্ট” বা প্রদর্শনীমূলক গ্রেপ্তারের প্রবণতাও উদ্বেগজনক। জামিন পাওয়া পরও মানুষকে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে, যা বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার জন্য হুমকি। রুমিন ফারহানা বলেন, “আজ আমি ক্ষমতায় থাকলে শোধ নিলাম, কাল অন্যরা এসে শোধ নেবে—এই চক্র বন্ধ করতে হবে। প্রতিশোধের এই চক্র শেষ না করা পর্যন্ত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে না।”
সর্বশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপরাধীদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা হবে, তবে নিরপরাধ কোনো মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মিথ্যা মামলা এবং শো-অ্যারেস্টের ঘটনা বৃদ্ধির সঙ্গে নিম্নলিখিত ধারা দেখা গেছে:
| বিষয় | ঘটনা/প্রবণতা | প্রভাব |
|---|---|---|
| মিথ্যা মামলা | ব্যক্তিগত শত্রুতা বা প্রতিশোধের জন্য মামলা | নিরপরাধ মানুষ হয়রানি হয় |
| একাধিক আসামি | একই মামলায় শতাধিক মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করা | আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয় |
| শো-অ্যারেস্ট | জামিন পাওয়ার পরও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার | সামাজিক আতঙ্ক ও ন্যায়বিচার ক্ষয় হয় |
| মামলা বাতিল/নাম বাদ | টাকা দিলে মামলা থেকে নাম বাদ দেওয়া | দুর্নীতি ও অবিচারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় |
রুমিন ফারহানা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, যাতে মিথ্যা মামলা ও প্রতিশোধমূলক মামলা বন্ধ হয় এবং জনগণের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনা যায়।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি দেশের বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং নিরপরাধদের সুরক্ষার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছেন।