খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ জুলাই ২০২৫
নেত্রকোনার পুলিশ লাইন্স স্কুল ও কলেজে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে প্রথমে ছুটি ঘোষণা ও পরে সেই ছুটিকে ‘ভুয়া’ আখ্যা দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে পুরো বিষয়টি এখন রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর আলোচনায় পরিণত হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে স্কুলের নিজস্ব ফেসবুক পেজে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসূচির কারণে স্কুলটি রোববার ও সোমবার (২৮ ও ২৯ জুলাই) দুই দিন বন্ধ থাকবে। এরপর ৩০ জুলাই থেকে যথারীতি ক্লাস ও পরীক্ষা চলবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কর্মসূচির কারণে পুলিশ লাইন্স স্কুল ও কলেজ, নেত্রকোনা আগামী ২৮ ও ২৯ জুলাই (রবিবার ও সোমবার) দুই দিন বন্ধ থাকবে। উল্লেখ্য, ৩০ জুলাই থেকে যথারীতি ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলকে জানানো হলো।’ বিজ্ঞপ্তিটির নিচে প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেকের নাম, পদবী ও স্কুলের অফিসিয়াল সিলও দেখা যায়।
এ বিজ্ঞপ্তি রাতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। সমালোচনার মুখে পড়লে শুক্রবার সকালে স্কুলের ফেসবুক পেজ থেকে বিজ্ঞপ্তিটি মুছে ফেলা হয় এবং সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে নতুন একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।
নতুন বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গতকাল রাতে একটি চক্র পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য পুলিশ লাইন্স স্কুল ও কলেজ, নেত্রকোনার ভুয়া নোটিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। এই নোটিশের সাথে স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই। রোববার ও সোমবার যথারীতি ক্লাস ও পরীক্ষা চলবে।’
এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভুয়া নোটিশটি ফেসবুকে কে দিল, আমরা জানি না। সেখানে আমার নাম থাকলেও কোনো স্বাক্ষর নেই। এটা আমার নামে অপপ্রচার।’
তবে আগের রাতে প্রথম বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে জানতে চাইলে ওই সময় প্রধান শিক্ষক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এনসিপির সমাবেশ উপলক্ষে বাইরে থেকে বাড়তি পুলিশ আসবে, তাদের পুলিশ লাইনস স্কুলে থাকতে দেওয়া হবে। তাই বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ে প্রায় ১০টির মতো বড় শ্রেণিকক্ষ আছে। আশা করি, থাকার সমস্যা হবে না।’ তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়টিতে শিশুশ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত ২৫০ জন শিক্ষার্থীকে ১৬ জন শিক্ষক পাঠদান করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনসিপির মহাসচিব মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, ‘পদযাত্রা উপলক্ষে স্কুল ছুটির সঙ্গে আমাদের দলের কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা এমন কোনো চিঠিও দেইনি। এটা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।’
পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্র জানায়, ২৮ জুলাই নেত্রকোনায় এনসিপির পদযাত্রা কর্মসূচি রয়েছে। কর্মসূচিকে ঘিরে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশের সদস্য আসবেন। নেত্রকোনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান বলেন, ‘অনেক সময় বাহিনীর সদস্যরা পুলিশ লাইন্স স্কুলে থাকেন। তবে এ কারণে স্কুল বন্ধ ঘোষণা করার প্রশ্নই আসে না। বাইরে থেকে ৬৬ জন পুলিশ সদস্য আসবেন, তারা পুলিশ লাইন্সেই থাকবেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, প্রথম যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল, সেটি প্রকাশিত হয়েছিল স্কুলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে। প্রধান শিক্ষকের নাম, পদবী ও অফিসিয়াল সিলও ছিল সেখানে। এখন সেটিকে ভুয়া বলা হচ্ছে কীভাবে? এছাড়া রাতেই যিনি সংবাদমাধ্যমকে ছুটি ঘোষণার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন, তিনিই সকালে সেটিকে ‘অপপ্রচার’ বলছেন— এতে জনমনে আরও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য একটি সরকারি স্কুল বন্ধ ঘোষণা এবং পরে সেটিকে ‘ভুয়া’ বলা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য অশনি সংকেত। একজন প্রধান শিক্ষক রাতেই বিষয়টি স্বীকার করে সকালে অস্বীকার করছেন— এটিই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে।
এ ঘটনায় স্কুলের অভিভাবক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও বলছেন, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে এমন বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হলো, তা তদন্ত হওয়া দরকার।
খবরওয়ালা/এন