খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৫ নভেম্বর ২০২৫
সুদানের গৃহযুদ্ধ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি যুদ্ধ ও সহিংসতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব সামাজিক উন্নয়ন শীর্ষ সম্মেলনের এক পার্শ্ব বৈঠকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
গুতেরেস বলেন, সুদানের উত্তর দারফুরের এল ফাশার ও এর আশপাশের এলাকাগুলো এখন ক্ষুধা, সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুত মানুষের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। আরএসএফ বাহিনীর এল ফাশার দখলের পর পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। তাদের অবরোধের কারণে লাখ লাখ বেসামরিক নাগরিক আটকা পড়েছে। অপুষ্টি, রোগ ও সহিংসতায় অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত অস্ত্রবিরতি বাস্তবায়নের বিষয়ে মঙ্গলবার আলোচনা করেছে সুদানিজ আর্মড ফোর্সেস (এসএএফ)। আলোচনায় অস্ত্রবিরতি কার্যকর করার শর্ত নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা হয়, যেখানে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে সুদানের শহরগুলো, বিশেষ করে এল ফাশার এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এসএএফ ও আরএসএফের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি থাকায় যেকোনো অস্ত্রবিরতি স্বল্পস্থায়ী হতে পারে। ফলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সুদানে প্রায় ১৮ মাস ধরে এসএএফ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) মধ্যে সংঘাত চলছে। জাতিসংঘ একে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই যুদ্ধে দেড় লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং এক কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
গত সপ্তাহে আরএসএফ বাহিনী দারফুরের এল ফাশার দখল করে। এরপর তাদের সেনাদের বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে এল ফাশারে সংঘটিত গণহত্যা, ধর্ষণ ও অন্যান্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ সংগ্রহ করছেন। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
খবরওয়ালা/টিএসএন