খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫
নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জোহরান মামদানি। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এই ঐতিহাসিক জয় সত্ত্বেও রিপাবলিকান নেতা ও সমর্থকরা তার মেয়র পদে দায়িত্ব গ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করতে নাগরিকত্বকে ব্যবহার করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নির্বাচনের আগে হুমকি দিয়েছিলেন যে, মামদানি জিতলে নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল তহবিল আটকে দেওয়া হবে। তিনি মামদানির নাগরিকত্ব নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন এবং উগান্ডায় জন্মগ্রহণকারী ৩৪ বছর বয়সী মামদানিকে মিথ্যা অভিযোগে ‘কমিউনিস্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা তার নাগরিকত্ব প্রক্রিয়ার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন, এমনকি মার্কিন নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া এবং নির্বাসনের কথাও বলেছেন। প্রমাণ ছাড়া তাকে ‘কমিউনিস্ট’ এবং ‘সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে জড়িত’ থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
রিপাবলিকান পার্টির প্রতিনিধি অ্যান্ডি ওগলস ২৯ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছেন, “যদি মামদানি নাগরিকত্বের নথিতে মিথ্যা বলেন, তবে তিনি মার্কিন নাগরিক হতে পারেন না এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। একজন কমিউনিস্ট যিনি প্রকাশ্যে ‘সন্ত্রাসবাদী মতাদর্শ’ গ্রহণ করেছেন, তার হাতে একটি মহান শহর পরিচালিত হতে পারে।”
ওগলস আরও বলেন, “আমার সন্দেহ আছে তিনি নাগরিকত্ব আবেদনপত্রে কমিউনিজম বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্ক প্রকাশ করেছেন কিনা। যদি তা সত্য হয়, তবে তাকে উগান্ডায় ফেরত পাঠানো উচিত।”
ফ্লোরিডার রিপাবলিকান প্রতিনিধি র্যান্ডি ফাইনও নিউজম্যাক্সে মন্তব্য করেছেন, “বর্বররা আর বাইরে নয়, তারা ভেতরে ঢুকেছে। মামদানি, যিনি আট বছর আগে এসেছেন, তার উদাহরণ। এখন একজন নাগরিক হয়েছেন, তবে আমার মতে তিনি নাগরিকত্ব অর্জনের যোগ্যতা পূরণ করেননি।”
তবে পলিটিফ্যাক্ট কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায়নি যে মামদানি নাগরিকত্ব আবেদনপত্রে মিথ্যা জানিয়েছেন। মামদানি উগান্ডায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৮ সালে সাত বছর বয়সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ২০১৮ সালে তিনি মার্কিন নাগরিক হন। সাধারণভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের নাগরিকত্ব পেতে পাঁচ বছর ধরে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা হিসেবে অবিচ্ছিন্নভাবে থাকা প্রয়োজন, অথবা মার্কিন নাগরিকের সঙ্গে বিবাহিত হলে তিন বছর বসবাস করলেই হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিকত্ব বাতিল করার প্রক্রিয়া শুধুমাত্র বিচারিক আদেশের মাধ্যমে সম্ভব। অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, মামদানির নাগরিকত্ব নিয়ে ওগলস ও ফাইনের দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ নেই।
মামদানির নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে তখনই যখন তিনি ডেমোক্র্যাটিক দলের মেয়র পদে মনোনীত হন। এরপর তিনি নিউইয়র্কের সাবেক ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোকে সহজেই পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন।