খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দীর্ঘদিনের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখেন। এক দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে, তার জার্সিতে যুক্ত হয়েছে ৯২টি ম্যাচ। কিন্তু ভারতের বিপক্ষে পরিসংখ্যানটা সুখকর নয়—এ পর্যন্ত ৬ ম্যাচে অংশ নিয়েও একবারও জয় পায়নি বাংলাদেশ। তবু হতাশ নন জামাল। বরং এবারের সুযোগটাকে তিনি দেখছেন ইতিহাস পাল্টানোর উপযুক্ত সময় হিসেবে।
জামালের ভাষায়, “আমরা এখন যেই স্কোয়াড নিয়ে খেলতে নামছি, এটিই বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী স্কোয়াড। তাই ভারতকে হারানোর একটা বড় সুযোগ আমাদের সামনে আছে।”
২০২৫ সালে সাত ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশ জিততে পেরেছে কেবল ভুটানের বিরুদ্ধে। তাই বছরের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটাকে নতুন করে আত্মবিশ্বাস গড়ার সুযোগ হিসেবে দেখছে দল। আগামীকাল জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে জামালরা, আর ম্যাচটি নিয়ে অধিনায়কের প্রত্যাশা স্পষ্ট—“বছরটা যদি জয় দিয়ে শেষ করতে পারি, সেটা শুধু দলের জন্য নয়, সমর্থকদের জন্যও দারুণ ইতিবাচক বার্তা হবে।”
এ ম্যাচকে ঘিরে ফুটবলারদের ভেতর বাড়তি আবেগ কাজ করছে। দুই দেশের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বরাবরই উত্তেজনাপূর্ণ। জামাল স্বীকার করলেন, ম্যাচে নানা চ্যালেঞ্জ আসবে—ফ্রি কিক, হলুদ কার্ড, এমনকি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও। তবে তিনি চান, দল যেন মাথা ঠাণ্ডা রেখে খেলতে পারে।
জামাল খোলামেলাভাবে স্বীকার করেছেন যে দলের রক্ষণে এখনো দুর্বলতা আছে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, ভারতের আক্রমণাত্মক খেলার ধরনই বাংলাদেশকে পাল্টা সুযোগ এনে দেবে। তাঁর ভাষায়, “ভারত যদি অনেক ওপরে উঠে খেলে, তাহলে আমাদের সামনে প্রচুর জায়গা তৈরি হবে। আমাদের আক্রমণে যারা খেলছে, তারা খুব গতিময়। রাকিব তো দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুতগতির খেলোয়াড়দের একজন। আমরা তাকে ঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে ভারতের যেকোনো ডিফেন্স সে ভাঙতে পারবে।”
ভারতের বিপক্ষে জয়হীন থাকার চাপ থাকলেও এবার দলের আত্মবিশ্বাস আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বলে মনে করেন জামাল। তার মতে, দলের অভিজ্ঞ ও তরুণ খেলোয়াড়দের সমন্বয় এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে, যা বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
শেষ দিকে তিনি বলেন, “এই ম্যাচের পর জাতীয় দলের লম্বা বিরতি। তাই মাঠে আমরা সেরাটা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। এবার অন্তত সেই গেরো খুলতে চাই।”
বাংলাদেশের সমর্থকরাও অধীর আগ্রহে অপেক্ষায়—১৭ কোটি মানুষের আশা কি পূরণ হবে? তা জানা যাবে আগামীকাল।