খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২৩ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাঙালি হয়েও বিশ্ববিজ্ঞানকে অগাধ সমৃদ্ধ করা কিংবদন্তি স্যার জগদীশ চন্দ্র বসুর প্রতি আজও গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মানুষ। বিজ্ঞান, দর্শন, উদ্ভিদবিদ্যা ও উদ্ভাবন—এই চার সমান্তরাল জগতে তাঁর পদচিহ্ন এমনভাবে ছড়িয়ে আছে যে তাঁকে সহজে এক-দুটি পরিচয়ে বেঁধে রাখা অসম্ভব। তিনি ছিলেন একাধারে গবেষক, উদ্ভাবক, চিন্তাবিদ ও শিক্ষক—যাঁর হাতে বাঙালি মেধা সত্যিকারের বৈশ্বিক পরিচয় পায়।
উদ্ভিদের জীবনীশক্তি ও অনুভূতির সক্ষমতা নিয়ে তাঁর গবেষণা বিশ্ববিজ্ঞানে এক নতুন দ্বার উন্মোচন করে। তিনি বৈজ্ঞানিক যন্ত্র ক্রেসকোগ্রাফ উদ্ভাবন করেন, যা উদ্ভিদের বৃদ্ধি ও প্রতিক্রিয়া সূক্ষ্মভাবে মাপতে সক্ষম। তাঁর আবিষ্কার সেই সময়ের বিজ্ঞানজগতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিলেও পরবর্তী সময়ে বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা পায়।
আজকের রেডিও, ওয়াই-ফাই, মাইক্রোওয়েভ—এই সব প্রযুক্তির শেকড়েও রয়েছে তাঁর গবেষণা।
১৮৯৫ সালেই তিনি কলকাতায় মাইক্রোওয়েভ সংকেত পাঠানোর প্রদর্শনী করেন, যা সমসাময়িক অনেক ইউরোপীয় উদ্ভাবকের চেয়েও আগে। সেই সময় ব্যবহার করা তাঁর মাইক্রোওয়েভ রিসিভার ও ট্রান্সমিটার আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির ভিত্তি গঠনে বিশাল ভূমিকা রাখে।
তাঁর গবেষণা ও উদ্ভাবনের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সম্মাননা লাভ করেন, যা একজন উপনিবেশিক প্রেক্ষাপটে বসবাসকারী বাঙালি বিজ্ঞানীর জন্য ছিল অভূতপূর্ব অর্জন।
১৮৫৮ সালের ৩০ নভেম্বর ময়মনসিংহে জন্ম নিলেও তাঁদের আদি বাড়ি ছিল বিক্রমপুরের রাঢ়িখালে। পিতা ভগবানচন্দ্র বসুর স্বদেশি চিন্তা, মানবিকতা ও বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি শৈশবেই তাঁকে গড়ে তোলে কৌতূহলী ও উদার চিন্তার মানুষ হিসেবে।
সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুল ও কলেজে পড়ালেখা শেষে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে পাড়ি জমান। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি সম্পন্ন করে বৈজ্ঞানিক গবেষণা তাঁকে পুরোপুরি আকৃষ্ট করে।
১৮৯৪–১৮৯৬: বৈদ্যুতিক তরঙ্গ নিয়ে গভীর গবেষণা
১৮৯৬: ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে ‘নাইট’ উপাধি
১৯২০: রয়্যাল সোসাইটির ফেলো নির্বাচিত
১৯২৭: ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসের সভাপতি
১৯২৮: ভিয়েনা একাডেমি অব সায়েন্সের করসপন্ডিং সদস্য
১৯৩৭ সালের ২৩ নভেম্বর তিনি পৃথিবী ছেড়ে গেলেও তাঁর অবদান আজও প্রযুক্তি, উদ্ভিদবিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখায় অমলিন।
বাঙালি হয়েও বিশ্বকে সমৃদ্ধ করা এই মহান বিজ্ঞানীর আলো মানবসভ্যতাকে পথ দেখিয়ে যাচ্ছে এখনও।
খবরওয়ালা/এসজে