এখন টাকাকেই দেবতার সমতুল্য মনে করা হচ্ছে। এজন্যই আজ আমরা সামান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগেও কেঁপে উঠি। তাই আমরা বলছি, যার যে কাজ—রাজনীতিবিদ যারা, যারা রাজনীতি করছে—তাদের রাজনীতি নিয়ে কাজ করতে দিন। অন্য কেউ এ উপলব্ধি বোঝবে না, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রোববার রাজধানীর ভাসানী ভবনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, সদ্য প্রয়াত সাইফুল ইসলাম পটু’র আত্মার মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত পূর্ব আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী আরও বলেন, “কারওয়ান বাজার মোগল আমলের। এখানে নদী ছিল। এক সময় পালতোলা নৌকা আসত, জাহাজও আসত। কিন্তু আমরা সেই নদী রক্ষা করিনি, মনেই রাখিনি। দ্রুত ভরাট করে জায়গা দখল করা হলো। কোনো পরিকল্পনা ছাড়া বাড়ি বানানো হলো, ভাড়া দেওয়া হলো বা বিক্রি করে অর্থ আয় করা হলো। গ্রাম থেকে জমি বিক্রি করে ঢাকায় এসে ফ্ল্যাট কেনা হলো। মানুষ দ্রুত বড়লোক হতে চাচ্ছে। সেই বিস্তীর্ণ ধানক্ষেত, নদী, পুকুর আর রাখার ইচ্ছে নেই।”
রিজভী আরও বলেন, “ঢাকায় এত বড় নেতা, গবেষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও ধোলাইখাল বন্ধ করে দেওয়া হলো। কেন আমরা এটি পুনঃখনন ও পরিষ্কার করে পানি সচল রাখিনি? মিরপুরের পাইকপাড়া থেকে খাল গাবতলীতে গিয়ে মিলত। এখন আর তা দেখা যায় না। ভূমিদস্যু ও নগর পরিকল্পনাকারীদের কাছে খাল, পরিবেশ, নির্মল বাতাস শত্রু। শুধু ঢাকা নয়, পুরো বাংলাদেশে সমাজের কর্তা ও শাসকরা এ বিষয়গুলোকে শত্রু মনে করছে। কেউ ভাবেনি ধোলাই খাল রক্ষা করতে হবে, আমাদের সন্তানদের সুস্থ রাখতে হবে। এদের মূল চাহিদা টাকা।”
তিনি বলেন, “এক দেড় কাঠা পৈতৃক জায়গার ওপর তলার পর তলা করে দশ তলা পর্যন্ত করা হয়েছে। দ্রুত ঢাকা শহরের জলাধার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরা ভূমিদস্যু, আবার রাজনৈতিক নেতা ও সমাজের অধিপতি হয়ে গেছে। অনেকেরই মাত্র ম্যাট্রিক পাশ। খাল, বিল, পুকুর দখল করে এখন বড় ফার্মের মালিক। BUET বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য তাদের কাছে যেতে হয়—সমাজ এভাবে বিভক্ত হয়েছে। এটি সবচেয়ে বেশি হয়েছে শেখ হাসিনার আমলে। নইলে ঢাকায় ৫০টির বেশি ক্যাসিনো কীভাবে থাকতে পারত? অথচ এর সঙ্গে জড়িতদের আওয়ামী লীগ থেকে বাদ বা বহিষ্কার করা হয়নি।”
রিজভী ভূমিকম্পের প্রসঙ্গে বলেন, “এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের উপলব্ধি করার জন্য একটি বার্তা। আমরা যারা রাজনীতি করি, আমাদের উপলব্ধি করার সময় এসেছে। যদি তা না করি, আমরা শূন্য গর্তে হারিয়ে যাব। আসুন, আমরা বাসযোগ্য বাংলাদেশ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলি।”
এসময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, যুব বিষয়ক সহ-সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



