খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন নানা বিতর্ক, উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্য দিয়ে শেষের পথে।
রাতভর ভোট গণনা চলছে, এরই মধ্যে কয়েকটি হলে ঘোষিত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে শিবির–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ ভিপি পদে বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছে। অন্যদিকে ছাত্রদল–সমর্থিত প্রার্থীরা ভরাডুবির মুখে পড়েছেন।
মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। ভোট শুরুর পর থেকেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেলগুলো। বিকেলে ভোট শেষে গণনা শুরু হয় আটটি কেন্দ্রে। তবে পাঁচটি আলাদা ব্যালট শিট OMR মেশিনে দেওয়ায় সময় বেশি লাগছে বলে জানান প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা। রাতেই ফল ঘোষণা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সন্ধ্যার পর ক্যাম্পাস ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও বিএনপি ও জামায়াতপন্থী নেতাকর্মীরা শাহবাগ, নিউমার্কেট ও প্রেস ক্লাব এলাকায় অবস্থান নেন। এতে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হলে অন্তর্বর্তী সরকারের তিন উপদেষ্টা, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং ডিএমপি কমিশনার ফোনে উভয় দলের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ না করতে কঠোর বার্তা দেন।
প্রতিরোধ পর্ষদের ভিপি প্রার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ অভিযোগ করেন, ক্যাম্পাসে যুদ্ধংদেহি পরিবেশ তৈরি করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা হয়েছে। শিবির–সমর্থিত ভিপি প্রার্থী সাদিক কায়েমকে ভোট গণনা কক্ষে দেখা যাওয়ার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এজিএস প্রার্থী জাবির আহমেদ দাবি করেন, ভোট গণনার সময় শিবিরপন্থি ও পরবর্তীতে ছাত্রদলের প্রার্থীরা বলপ্রয়োগ করে কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করেন, যা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তোলে।
এখন পর্যন্ত ভোটের হিসাব (ভিপি পদ) পাঁচটি হলে ঘোষিত ফলাফলের ভিত্তিতে: সাদিক কায়েম (শিবির–সমর্থিত) পেয়েছেন ৭,০৭৬ ভোট, আবিদুল ইসলাম খান (ছাত্রদল–সমর্থিত) পেয়েছেন ১,৭৮৯ ভোট। ফজলুল হক মুসলিম হলে সাদিক পেয়েছে ৮৪১ ভোট আর আবিদ পেয়েছেন ১৮১ ভোট।
অমর একুশে হলে সাদিক ৬৪৪ আর আবিদ ১৪১ ভোট, শহীদুল্লাহ হলে সাদিক ৯৬৬, আবিদ ১৯৯, সুফিয়া কামাল হলে সাদিক ১,২৭০, আবিদ ৪২৩। তবে জগন্নাথ হলে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সেখানে সাদিক পেয়েছেন মাত্র ১০ ভোট আর আবিদ পেয়েছেন ১,২৭৬ ভোট।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে উমামা, শামীম, আবদুল কাদের ও বিন ইয়ামিনও ভোট পেয়েছেন, তবে ব্যবধান অনেক কম।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডিএমপি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ফল ঘোষণার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে ভিড় না করতে। ভোট–পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ৪০ হাজার; উপস্থিতি ৮০ শতাংশের বেশি। প্রাথমিক ফলাফলে শিবির–সমর্থিত জোটের ‘ভূমিধস বিজয়’ ও ছাত্রদলের পরাজয়ের চিত্র স্পষ্ট হলেও, কেন্দ্রীয়ভাবে চূড়ান্ত ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়নি। তবে রাজনৈতিক সচেতনরা বলছেন, ডাকসুর এই ফলাফল ছাত্রদলের রাজনীতির কবর রচনা করেছে।
১৯৯১ সালে ডাকসুতে ছাত্রদলের বিজয় বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার পথ প্রশস্ত করেছিল। এবার তার উল্টোটা ঘটলো কি না তা দেখার জন্য আগামীর জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
খবরওয়ালা/আশ