খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
মানিকগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার বাউল শিল্পী আবুল সরকারকে কেন্দ্র করে দেশে আবারও সহিংসতার ঘটনা সামনে এসেছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁর অনুসারী ও ভক্তদের ওপর হামলা হওয়ার ঘটনার পর সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার অঙ্গনের ২৫৮ জন বিশিষ্ট নাগরিক কঠোর নিন্দা জানিয়ে যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক সময়ের ধর্মীয় উগ্রবাদের বিস্তার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নীরবতা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র—গঠনের প্রতিশ্রুতির বিপরীতে চলমান বাস্তবতার গভীর আশঙ্কা।
বিবৃতিতে বলা হয়, জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে দেশে ধর্মীয় উগ্রবাদ অস্বাভাবিকভাবে মাথাচাড়া দিয়েছে। একটি সংগঠিত গোষ্ঠী ইসলামকে নিজেদের একচেটিয়া মালিকানা দাবি করে ‘শুদ্ধি অভিযান’ নামের উগ্রতাকাঠামো জোরদার করেছে। তাদের হাতে মাজার ভাঙচুর, মানুষকে ‘মুরতাদ’ বা ‘কাফের’ আখ্যায়িত করা, কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে ফেলা, রাস্তার বাউল–ফকিরদের অপমান করা, নারীদের পোশাক ও চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—নাটক, সঙ্গীত, মেলা কিংবা খেলাধুলার আয়োজন ভণ্ডুল করা—সবকিছুই যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।
বিশিষ্ট নাগরিকদের মতে, মানুষের স্বাভাবিক জীবন, মতপ্রকাশ, আধ্যাত্মিক সাধনা ও সাংস্কৃতিক চর্চার ওপর এ ধরনের হামলা শুধু সামাজিক আতঙ্ক নয়, বরং একটি শ্বাসরোধী সমাজব্যবস্থা গঠনের লক্ষণ। তারা অভিযোগ করেন, আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হচ্ছে; বরং কখনো নীরবতা, কখনো ভুক্তভোগী ব্যক্তিকেই অভিযুক্ত করার মাধ্যমে উগ্রবাদীদের প্রশ্রয় দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
তাঁরা উল্লেখ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের দেড় বছর পরও সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণের পথে অটল থাকার পরিবর্তে উগ্রবাদকে কৌশলগতভাবে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এর ফলে গণতন্ত্রমনা মানুষ হতাশ হচ্ছে এবং অতীতে পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তির পুনরুত্থানের পথও উন্মুক্ত হচ্ছে।
বিবৃতিতে অবিলম্বে বাউল আবুল সরকারসহ হামলা ও হয়রানির শিকার সব বাউল–ফকিরকে মুক্তি দেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়। স্বাক্ষরকারী তালিকায় দেশের বিশিষ্ট শিক্ষক, লেখক, গবেষক, আইনজীবী, শিল্পী, সংগীতজ্ঞ, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা যুক্ত হয়েছেন—যাদের সংখ্যা ২৫৮।