খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের আইন–শৃঙ্খলা রক্ষা ও প্রশাসনিক কাঠামোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। বুধবার একদিনে পুলিশ, প্রশাসন ও অধস্তন বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের এক হাজারেরও বেশি কর্মকর্তাকে বদলি ও পদোন্নতির নির্দেশ দিয়ে কার্যত নতুন করে মাঠ প্রশাসনকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় রদবদল বলে পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করছেন।
গত মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’তে লটারির মাধ্যমে সারাদেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) চূড়ান্ত করার পর বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বদলি–পদায়নের প্রজ্ঞাপন জারি হয়।
এত বড় পরিসরে একযোগে বদলি–পদায়ন নির্বাচনী আইন–শৃঙ্খলা নিশ্চিতে সরকারের দ্রুত ও দৃঢ় প্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয় বলে প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মন্তব্য।
এর আগে সরকার ৫০ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নিয়োগ দেয়। ইউএনও পর্যায়েও একই দিনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
১৬৬ জন সিনিয়র সহকারী সচিবকে ইউএনও হিসেবে পদায়ন করা হয়।
জাতীয় নির্বাচনে ডিসি, এসপি ও ইউএনওদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—ডিসিরা রিটার্নিং অফিসার ও ইউএনওদের অনেকেই সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যদিও এবার নির্বাচন কমিশন এখনো রিটার্নিং কর্মকর্তাদের তালিকা প্রকাশ করেনি।
অধস্তন আদালতের তিন স্তরেই পদোন্নতি ও পদায়ন হয়েছে।
মোট ৮২৬ জন বিচারককে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে বিচার বিভাগে একযোগে এমন পদোন্নতি বিচারিক কার্যক্রম দ্রুততর করা ও মামলা নিষ্পত্তিতে স্থিতিশীলতা আনার প্রচেষ্টা বলে ব্যাখ্যা করছেন আদালতসংশ্লিষ্টরা।
বদলিপ্রাপ্ত ও নবনিযুক্ত এসপিদের তালিকা দীর্ঘ; ঢাকার এসপি মো. আনিসুজ্জামান কুমিল্লায়, নারায়ণগঞ্জের এসপি মো. জসীম উদ্দিন কুষ্টিয়ায়, মুন্সিগঞ্জের এসপি মুহম্মদ শামসুল আলম টাঙ্গাইলে, গাজীপুরের এসপি চৌধুরী মো. যাবের সাদেক জামালপুরে ইত্যাদি।
অনুরূপভাবে খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, রংপুর, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলাতেই বদলি বা নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এই বিশাল রদবদলের মধ্য দিয়ে নির্বাচনকালীন রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে নিরপেক্ষ, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল রাখতেই সরকারের এই পদক্ষেপ—এমনটাই মনে করছে প্রশাসন–বিশ্লেষক মহল।