খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল বর্তমানে আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্বলতার শিকার। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু আল হাজ্জাজ এর বিরুদ্ধে চার বছরের বেশি সময় ধরে নানা ধরনের আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল কর্মীদের অভিযোগ, হাসপাতালের মালামাল ক্রয় ও ভাউচার ব্যবস্থাপনা সম্পূর্ণরূপে তাঁর নিয়ন্ত্রণে।
প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ মালামাল ক্রয় দেখানো হলেও তা যথাযথভাবে স্টোরে মজুদ থাকে না। অনেক ভাউচারে বিক্রেতার স্বাক্ষরও অনুপস্থিত, যা সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার ব্যাহত করছে। সূত্রের দাবি, চার বছরের মধ্যে ডা. হাজ্জাজের ভাউচারের মাধ্যমে অবৈধ উপার্জন প্রায় ৪ কোটি টাকা এবং টেন্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকা লোপাট হয়েছে।
| আর্থিক অনিয়মের ধরন | আনুমানিক পরিমাণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ভাউচারের মাধ্যমে অবৈধ আয় | ৪ কোটি টাকা | বিক্রেতার স্বাক্ষর অনুপস্থিত |
| টেন্ডার জালিয়াতি | ২০ কোটি টাকা | ক্রয়কৃত মালামালের ৮০% লোপাট |
| জমা থাকা মালামাল | ২০% | মালামাল স্টোরে রাখা হয়েছে, বাকি লোপাট |
স্থানীয়দের মতে, ডা. হানিফ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক, এই অনিয়মে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও উভয় কর্মকর্তার দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত হয়নি।
ভুক্তভোগি ও এলাকাবাসী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, পদক্ষেপ না নেওয়া হলে হাসপাতালের সেবা ব্যাহত হবে এবং সাধারণ রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেছেন, আওয়ামী লীগের আমলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা নারীর সঙ্গে জড়িত কেলেঙ্কারি ঘটনা চাপা দিয়েছিলেন। তাঁরা মনে করছেন, নারীর প্রতি অবহেলা ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের কার্যক্রম প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে এই ধরনের অনিয়ম শুধুমাত্র স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্যসেবার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মানকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ, দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।