খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
আসামের আকাশে জুবিন গার্গ নামটি যেন শুধু একজন সংগীতশিল্পীর পরিচয় নয়, বরং মানুষের আবেগ, ভালোবাসা ও গর্বের এক প্রতীক। তাঁর মৃত্যুর মাস পেরিয়ে গেলেও এই ভালোবাসা কতটা গভীর, তার সাক্ষী হলো ভোটার তালিকা হালনাগাদের সময় ঘটে যাওয়া এক ঘটনা। যেখানে নিয়মকানুনের কঠোরতার মাঝেও মানবিকতা উঁকি দিয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে নিযুক্ত ছিলেন তাফিজ উদ্দিন। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তিনি বাড়ি বাড়ি যাচাই করছিলেন কারা জীবিত, কারা মৃত—যা মূলত একটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও নিরাবেগ দায়িত্ব। কিন্তু কাজের মাঝে যখন তাঁর হাতে আসে জুবিন গার্গের নাম ও ছবি, তখন কাজ আর কাজ থাকে না; তা পরিণত হয় আবেগের মুহূর্তে। নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে ‘মৃত’ হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত ছিল। কিন্তু তিনি কলম থামিয়ে দেন। সামান্য এক ড্যাশ বা টিকমার্ক দিতে চাইলেও হাত কাঁপে। শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের হৃদয়ের ভাষায় লিখে দেন— “চিরকাল অমর হয়ে থাকুন।”
পরবর্তীতে তাফিজ উদ্দিন বলেন, “জুবিন গার্গ ছিলেন আমাদের আত্মার সঙ্গী। তাঁর গান শোনে আমরা বড় হয়েছি। তাঁর মৃত্যু মেনে নেওয়াই কঠিন, সেখানে ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ লিখব কী করে?”
এই মানবিক ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। জুবিনের পরিবারের পক্ষ থেকে পালমি বরঠাকুর শেয়ার করে লিখেন, “এমন ভালোবাসাই আমাদের বাঁচিয়ে রাখে। তাফিজ দাদাকে ধন্যবাদ।” পোস্টটি ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সংগীতপ্রেমী সবাই মন্তব্য করতে থাকেন যে জুবিন গার্গের মতো একজন শিল্পীর অবদান কোনো তালিকা বা নথির শব্দে সীমাবদ্ধ নয়।
আসামে যখনই জুবিনের কথা ওঠে, মানুষের চোখে একইসঙ্গে কষ্ট ও শ্রদ্ধার ঝিলিক দেখা যায়। তাঁর মৃত্যু যেন পুরো রাজ্যের অনুভূতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে তাঁর প্রয়াণের খবর আসার পর থেকেই আসামের মানুষ তাঁকে মনে-প্রাণে ধরে রেখেছে।
সামাজিক গবেষকেরা বলেন, একজন শিল্পী যখন মানুষের আত্মায় পৌঁছে যান, তখন তিনি শুধু গান দিয়ে নন, বরং স্মৃতি, সংগ্রাম ও স্বপ্ন দিয়ে বেঁচে থাকেন। তাই তাঁর মৃত্যু প্রশাসনিক নথির ভাষায় লেখা গেলেও মানুষের হৃদয়ের পাতায় লেখা যায় না। তাফিজ উদ্দিনের হৃদয়স্পর্শী কাজটি সেই সত্যটিই আবার স্মরণ করিয়ে দিল।