খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রজ্ঞাপন ডিসেম্বরের মধ্যে জারি না হলে আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে কঠোর কর্মসূচিতে নামার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের একটি অংশ। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) অর্থ উপদেষ্টার কাছে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে সংগঠনের মহাসচিব নিজাম উদ্দিন আহমেদ এই হুঁশিয়ারি দিয়ে পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান সময়ে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫ নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কমিশন গঠনের পর কর্মকর্তারা আশা করেছিলেন—দ্রুতই একটি বাস্তবসম্মত ও বৈষম্যহীন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে। কিন্তু সুপারিশ চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। সংগঠনের দাবি—এই অনিশ্চয়তা কেবল প্রজ্ঞাপন বিলম্বিত করছে না, বরং কর্মকর্তাদের ন্যায্য প্রাপ্তি বাস্তবায়নেও বাধা তৈরি করছে।
পরিষদ দাবি করেছে—বর্তমান ২০টি বেতন গ্রেড ভেঙে ১০ ধাপে নতুন কাঠামো নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি ১:৪ অনুপাতের ভিত্তিতে বেতন ব্যান্ড পুনর্গঠনের দাবি অত্যন্ত জরুরি। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য দুর হবে এবং নিম্ন ও উচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মধ্যে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে নিম্ন গ্রেডের সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে সংকটাপন্ন হয়ে গেছে। বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্য, বাসা ভাড়া, পরিবহন খরচ এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের মৌলিক জীবনধারাও হুমকির মুখে পড়েছে। বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা এই সংকটকে আরও গভীর করছে। অনেক কর্মচারী নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন, যা ক্রমেই কর্মক্ষেত্রে হতাশা ও ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলছে।
সংগঠনের প্রধান তিনটি দাবি সামনে আনা হয়—
১. সচিবালয় ভাতা পুনর্বিন্যাস,
২. নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন,
৩. সচিবালয় রেশন ভাতা চালু।
স্মারকলিপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে—ডিসেম্বরের মধ্যে প্রজ্ঞাপন এবং আগামী ১ জানুয়ারির মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হলে ১০ জানুয়ারি থেকে কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। আন্দোলনের ধরন কী হবে তা উল্লেখ না করলেও পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন—এটি হতে পারে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ বা অবস্থান কর্মসূচির মতো কঠোর কর্মসূচি।
শেষাংশে সংগঠনটি অর্থ উপদেষ্টার সরাসরি উদ্যোগ কামনা করে জানায়—কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ প্রশমনে ও ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, এই বেতন সংকট শুধু কর্মচারীদের জীবনযাত্রাকেই নয়, প্রশাসনিক কার্যক্রমকেও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।