খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 25শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের ফুটবল জগতে বহু প্রত্যাশা জাগিয়েছিল লাতিন বাংলা সুপার কাপ। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব–২০ ক্লাব দলের উপস্থিতি দেশের দর্শকদের মাঝে উৎকণ্ঠায় ভরপুর আগ্রহ তৈরি করেছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ম্যাচ স্থগিত হওয়ায় সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক ক্ষোভ, সমালোচনা ও হতাশা। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আয়োজকদের নানা অনিয়ম ও অপেশাদার আচরণের কারণে ম্যাচ স্থগিত ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।
আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা চুক্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ ছিল—পর্যাপ্ত আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং টিকিট বিক্রির হিসাব হালনাগাদ রাখতে হবে। কিন্তু দেখা যায়, প্রথম দুই ম্যাচ থেকে টিকিট বিক্রির যে পরিমাণ অর্থ আদায় হয়েছে, তার কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি আয়োজকদের কাছে নেই। তারা জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে প্রতিশ্রুত অর্থের ৫০ শতাংশও সময়মতো জমা দেয়নি। বরং তারা হিসাব গোপন করার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ছাড়া স্পনসরদের সঙ্গে করা চুক্তির কপি, ব্রডকাস্ট স্বত্বের বিবরণ—কোনোটাই ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে জমা দিতে পারেনি আয়োজকরা। এর ফলে মন্ত্রণালয়ের চোখে পুরো আয়োজনের আর্থিক অংশটিই হয়ে ওঠে সন্দেহজনক।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা। সোমবার রাতে নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে এক সাংবাদিক লাঞ্ছিত হন। তার ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাকে জোর করে মাঠ এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়। এই ঘটনাকে শুধু অপ্রীতিকর নয়, বরং গুরুতর নিরাপত্তা ব্যত্যয় হিসেবে দেখছে মন্ত্রণালয়। একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা মানে পুরো গণমাধ্যমের ওপর আঘাত—এমন মন্তব্য আসে বিভিন্ন মহল থেকে।
৮ ডিসেম্বরের ম্যাচেও সাংবাদিকদের সঙ্গে একই ধরনের দুর্ব্যবহার হয়। তাই মন্ত্রণালয় মনে করে, আয়োজকদের নিয়ন্ত্রণহীনতা ও অপেশাদার আচরণ ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। আন্তর্জাতিক দলগুলোকে এমন পরিবেশে খেলতে দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য আসে।
এদিকে কাফু ও ক্যানিজিয়ার সম্ভাব্য আগমন নিয়ে যে রোমাঞ্চকর আলোচনা চলছিল, সেটিও এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আয়োজকরা দাবি করছেন, সব প্রস্তুত ছিল, কিন্তু পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে তাঁদের আসা এখন অসম্ভব হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টুর্নামেন্টের মুখ্য আকর্ষণই ছিল এই দুটি কিংবদন্তির সফর। সেটি ভেস্তে গেলে আয়োজনে দর্শকের আগ্রহও কমে যেতে পারে।
সমগ্র ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে, আন্তর্জাতিক মানের কোনো আয়োজন করতে গেলে শুধু প্রচারণা নয়, বরং পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো না থাকলে আয়োজন ব্যর্থ হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ফুটবল প্রশাসনের দুর্বল দিকগুলো আবারও স্পষ্ট হয়েছে।