খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে এমন নিখুঁত পারফরম্যান্স বরাবরই বিরল। কিন্তু আর্সেনাল যেন অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখাচ্ছে। ছয় ম্যাচে ছয় জয়—এমন ধারাবাহিকতা আর্সেনাল সমর্থকদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পুরস্কার।
ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রুগে বুঝিয়ে দিয়েছে তাদের রক্ষণকে সামলাতে হবে খুব কষ্ট করে। আর্সেনালের উইং প্লে এতটাই ধারালো ছিল যে ব্রুগের ডিফেন্স লাইন বারবার দিশেহারা হয়ে পড়ে। ২৫ মিনিটে মাদুয়েকে যেভাবে বল দখল করে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করলেন, সেটি ছিল ক্লাসিক ইউরোপিয়ান গোল।
মাদুয়েকের দ্বিতীয় গোলটিও ছিল বুদ্ধিমত্তার পরিচয়। জুবিমেন্দির নিখুঁত ক্রসে সঠিক সময়ে পজিশনিং নিয়ে তিনি হেডে গোল করেন। কঠোর পরিশ্রম ও সূক্ষ্ম সিদ্ধান্ত নেওয়া—এই দুই গুণই তাকে আলাদা করে তুলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মৌসুমে আর্সেনাল যদি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে, তবে মাদুয়েকে অন্যতম নায়ক হবেন।
মার্টিনেলির গোল আরও এক ধাপ উপরে। আর্সেনালের খেলার সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের শৃঙ্খল। প্রতিটি পাস, প্রতিটি দৌড় সাজানো। আর সেই পরিকল্পনারই পরিণতি ছিল তৃতীয় গোল। ব্রাজিলিয়ানের শট এতটাই নিখুঁত ছিল যে ব্রুগে গোলরক্ষক এক ইঞ্চিও নড়তে পারেননি।
অন্যদিকে পিএসজির বিপর্যয় আসলে নতুন কিছু নয়। তারা বল দখলে যতই এগিয়ে থাকুক, গোলের সামনে গিয়ে ভেঙে পড়ে। মাঝমাঠে অনেক পাস, অনেক বিল্ড-আপ—কিন্তু শেষ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবই তাদের বড় সমস্যা। লুইস এনরিকের দল প্রতিটি ম্যাচেই সুযোগ তৈরি করে, কিন্তু গোল করতে না পারলে আধিপত্য অর্থহীন।
বিলবাওয়ের বিপক্ষে ড্র হওয়া মানে শুধু পয়েন্ট হারানো নয়, বরং মনোবল হারানোও। পিএসজি এখন টুর্নামেন্টের শক্তিশালী দল তালিকা থেকে একটু একটু করে পিছিয়ে পড়ছে।
রিয়াল–সিটি ম্যাচও ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। রিয়াল মাদ্রিদ যেখানে ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার দল, সেখানে সিটি হলো আধুনিক ফুটবলের প্রতীক। দুই দলের দ্বন্দ্ব সবসময়ই আগ্রহ তৈরি করে। কিন্তু এবার সিটিই শেষ হাসি হাসল।
রিয়ালের রক্ষণে সমন্বয়ের অভাব, মাঝমাঠে ধীরগতি এবং ফরোয়ার্ড লাইনে ভুল সিদ্ধান্ত—সব মিলে বেঙে যায় ম্যাচ। সিটির কৌশলগত পরিকল্পনা, প্রেসিং ও গতি রিয়াল মাদ্রিদকে চাপে ফেলে দেয় শেষ পর্যন্ত।