খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ১১ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে গত ৩ অগাস্ট যে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল, তা আসলে পুরোপুরি ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে। সোলায়মান সেলিম নামের এক ব্যক্তি যাকে ‘নিহত’ দেখানো হয়েছিল, আসলে জীবিত। তদন্তে দেখা গেছে, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ দায়ের করেছেন তারই ভাই মোস্তফা কামাল। এই অভিযোগ শুধু একটি পারিবারিক বিরোধের ইস্যু নয়, বরং অর্থ ও জমিজমার লোভের ভিত্তিতে তৈরি একটি কৌশলগত ষড়যন্ত্র।
প্রাথমিকভাবে মামলার আবেদনে সেলিমকে হত্যা করা হয়েছে উল্লেখ করে দুলাল ওরফে সেলিমের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ এজাহার হিসেবে গ্রহণ করেছিল। এরপর মামলায় ৪১ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শুরু হওয়ার পর আরও একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মোট আসামি সংখ্যা দাঁড়ায় ৪২। তবে তদন্তে বেরিয়ে আসে, মৃত দেখানো সেলিম আসলে জীবিত, এবং মামলার বাদী তারই বড় ভাই মোস্তফা কামাল।
ডিবি পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন জানান, “বাদী ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। আদালতের অনুমতি পেলে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।” তদন্তে জানা যায়, মোস্তফা কামাল এলাকায় ডাকাতি এবং হত্যা মামলার পলাতক। পরিবারের মধ্যে জমিজমার বিরোধের সুযোগ নিয়ে তিনি ছোট ভাইকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।
মামলার অব্যাহতি সুপারিশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪২ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রীও রয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারিবারিক বিবাদ এবং অর্থনৈতিক লোভের কারণে মামলাটি সাজানো হয়েছে।
সেলিম তার বাড়ি ছেড়ে দোকানেই বসবাস করছেন। তিনি বলেন, “আমার ভাইদের কারণে আমি নিরাপদ নই, তারা আমাদের মেয়েদেরও হত্যা করতে পারে।” পারিবারিক সংঘাত, রাজনৈতিক প্রভাব এবং জমিজমার লোভ মিলিয়ে এই মামলা দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।