খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি ভয়ঙ্কর ও চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর মা ও তাঁর কিশোরী কন্যার জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই হিংস্র হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত হয়েছিল তাঁদের ঘরের চাকরি করা আয়েশা এবং তাঁর স্বামী রাব্বির হাত ধরে। অভিযোগ অনুযায়ী, মাত্র দুই হাজার টাকার জন্য ঘটেছিল এই বর্বর অপরাধ। নিহতরা হলেন লাইলাহ ফিরোজ এবং তাঁর ১৫ বছরের কন্যা নাফিসা লাওয়াল বিনতি আজিজ। হত্যাকারীরা ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস.এন. মো. নজরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রাথমিক তদন্তে উদ্ভূত তথ্য অনুযায়ী, লাইলাহ ফিরোজ এবং আয়েশার মধ্যে একটি তুচ্ছ আর্থিক বিবাদের জেরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। এই সংঘর্ষের প্রতিশোধ হিসেবে পরের দিন আয়েশা ছুরি নিয়ে ফিরে এসে লাইলাহকে হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করে। সেই সময়ে নাফিসা ঘুমিয়ে ছিল, কিন্তু মায়ের সঙ্গে লড়াই চলাকালে ঘর থেকে আসা শব্দে সে জেগে ওঠে। নাফিসা ঘরের ইন্টারকমে সাহায্যের জন্য হাউস গার্ডকে জানাতে চেষ্টা করলে, সে-ও নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর রাব্বি তার স্ত্রীকে ঢাকা থেকে পালাতে সাহায্য করে, কিন্তু পুলিশ দ্রুত তাঁকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লাইলাহ (৪৮) ও নাফিসা (১৫) উভয়ের দেহ উদ্ধার করা হয় সোমবার, ৮ ডিসেম্বর, তাঁদের মোহাম্মদপুরের বাড়ি থেকে। লাইলাহর স্বামী ও স্কুল শিক্ষক এ.জে.এম. আজিজুল ইসলাম একই রাতে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশকে হত্যার অভিযোগ দাখিল করেন।
স্থানীয়রা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে দারুণ উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত। বাসিন্দারা জানান, এমন ঘটনার কারণে গৃহস্থালি নিরাপত্তা ও সাধারণ মানুষের মানসিক শান্তি বিপন্ন হচ্ছে।
কমিশনার নজরুল ইসলাম জানান, “আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ যে, এমন বর্বর অপরাধ আমাদের সমাজে কখনও স্থান পাবে না। অভিযুক্তরা আইন অনুযায়ী শাস্তির মুখোমুখি হবে।”
পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে আর কেউ জড়িত ছিল কি না তা যাচাই করছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।