খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
হংকংয়ের বীমা খাত ২০২৬ সালে ব্যাংকিং খাতের তুলনায় অধিক নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা শহরের সামগ্রিক আর্থিক সেবা খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। র্যান্ডস্ট্যাডের ২০২৬ মার্কেট আউটলুক অ্যান্ড স্যালারি গাইডে বলা হয়েছে, বীমা কোম্পানিগুলো নতুন বছরে আরও শক্তিশালী নিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে, যার পেছনে রয়েছে আঞ্চলিক সম্প্রসারণ ও পরিবর্তিত গ্রাহক প্রত্যাশা।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলো ধারাবাহিকভাবে ঐতিহ্যগত বাজারের বাইরে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। বর্তমানে দুবাই, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইনে সম্প্রসারণ উদ্যোগ চলছে। এই বহিরমুখী কৌশল এমন সময়ে দেখা দিচ্ছে যখন হংকং ও মূলভূখণ্ড চীনের অভ্যন্তরীণ বাজার ক্রমশ পরিপক্ব হয়ে উঠছে। ফলে বীমা কোম্পানিগুলো এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান বাজারে নতুন সুযোগ অনুসন্ধানে ভৌগোলিক পরিসর বিস্তারের দিকে ঝুঁকছে। ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতার এই সময়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এই বৈচিত্র্যকরণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল অগ্রগতি সত্ত্বেও বীমা শিল্প বিশেষ করে জীবন বীমা দাবির ক্ষেত্রে জনবল ঘাটতিতে ভুগছে। এই পদগুলো পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠেছে, কারণ দাবি যাচাই–বাছাই একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিচক্ষণতার ওপর নির্ভরশীল প্রক্রিয়া। পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান দাবি সংখ্যা ও জটিলতা কাজটিকে আরও চ্যালেঞ্জিং করে তুলছে। অনেক প্রশাসনিক কার্যক্রমে অটোমেশন যুক্ত হলেও দাবি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে যে মানবিক বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, তা এখনো অদম্য এবং প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন সম্ভব হয়নি।
খাতে স্থায়ী ব্যাক-অফিস কর্মী নিয়োগ কমে এসেছে। এর পরিবর্তে বীমা কোম্পানিগুলো দাবি নিষ্পত্তি, গ্রাহকসেবা এবং পলিসি প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক ও নমনীয় কর্মসংস্থানের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে। র্যান্ডস্ট্যাড জানায়, এই হাইব্রিড নিয়োগ কাঠামো বীমা কোম্পানিগুলোকে ক্রমবর্ধমান কর্মচাপ এবং জটিল গ্রাহক প্রয়োজনের প্রতি দ্রুত সাড়া দিতে সহায়তা করছে। বিশেষ করে দাবি ও আন্ডাররাইটিং টিমকে শক্তিশালী করতে চুক্তিভিত্তিক জনবল ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে, যাতে ব্যস্ত সময়েও কার্যক্রম স্থিতিশীল থাকে।
আগামী সময়ের জন্য প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হংকংয়ের আর্থিক কর্মসংস্থান বাজার এমন সব প্রতিষ্ঠানকেই প্রাধান্য দেবে যারা নির্ভুলতা ও উদ্ভাবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সক্ষম। যেসব কোম্পানি আর্থিক শৃঙ্খলা ধরে রেখে মানবসম্পদে বিনিয়োগ চালিয়ে যাবে, তারা বৈশ্বিক পরিবর্তনশীল পরিবেশে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকবে। কর্মক্ষমতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতমুখী জনবল কৌশল বাস্তবায়ন বাজারের নেতৃত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকে আলাদা করে তুলবে।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য প্রতিবেদনে বেতন কাঠামোর যে তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা অভিজ্ঞতা ও বিশেষায়নের ভিত্তিতে ভিন্ন। প্রশাসন, গ্রাহকসেবা ও দাবি–সংক্রান্ত বিভাগে এন্ট্রি-লেভেল কর্মীরা মাসে প্রায় ২,৩৪০ ডলার (১৮,০০০ হংকং ডলার) বেতন আশা করতে পারেন। মধ্য-অভিজ্ঞতার কর্মীরা মাসে ৬,৫০০ ডলার (৫০,০০০ হংকং ডলার) থেকে ১১,৭০০ ডলার (৯০,০০০ হংকং ডলার) উপার্জন করেন, যা দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল। অপরদিকে অ্যাকচুয়ারি, আন্ডাররাইটিং, পণ্য উন্নয়ন ও ট্রান্সফরমেশন–সম্পর্কিত বিশেষায়িত পদে মাসিক বেতন ১৫,৬০০ ডলার (১,২০,০০০ হংকং ডলার) থেকে ৩৯,০০০ ডলার (৩,০০,০০০ হংকং ডলার) পর্যন্ত হয়ে থাকে।
প্রতিবেদন অনুসারে বীমা খাতে সর্বোচ্চ বেতনপ্রাপ্ত পদ হচ্ছে চিফ অ্যাকচুয়ারি, যার মাসিক আয় ২৩,৪০০ ডলার (১,৮০,০০০ হংকং ডলার) থেকে ৩৯,০০০ ডলার (৩,০০,০০০ হংকং ডলার)। এটি নির্দেশ করে যে বীমা শিল্পে আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে অ্যাকচুয়ারিদের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।