খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার রাজধানী ঢাকার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও দেশের দ্বিতীয় শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিনিয়োগকারীদের জন্য হতাশাজনক দিন পার হয়েছে। লেনদেনের শুরুতে সূচকে কিছুটা ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেলেও দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রায় সব খাতেই বিক্রির চাপ বাড়তে থাকে। এর ফলে দিনশেষে উভয় বাজারেই সূচকের উল্লেখযোগ্য পতনের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণও কমে যায়।
ডিএসইতে দিনের শুরুতে বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর বাড়ায় সূচক ঊর্ধ্বমুখী হয়। এতে স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আশার সঞ্চার হয়েছিল। তবে এই ইতিবাচক ধারা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। লেনদেনের শেষ ভাগে এসে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ওষুধ, খাদ্য ও প্রকৌশলসহ প্রায় সব খাতেই বিক্রির প্রবণতা দেখা দেয়। ফলে ভালো ও মাঝারি—সব ধরনের কোম্পানির শেয়ার দর কমতে থাকে।
দিনশেষে ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া মোট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র ৭৯টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ২৪৯টির দর কমেছে এবং ৬৩টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এই চিত্র স্পষ্টভাবে বাজারে বিক্রির আধিক্য ও বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানকে নির্দেশ করে।
লভ্যাংশভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসে দেখা যায়, ভালো কোম্পানি হিসেবে বিবেচিত (যারা ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেয়) এমন ৪৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে। তবে একই শ্রেণির ১৩৬টি প্রতিষ্ঠানের দর কমেছে, যা বাজারের দুর্বল মনোভাবকে আরও স্পষ্ট করে। মাঝারি মানের কোম্পানির ক্ষেত্রেও দরপতনের সংখ্যাই বেশি। এমনকি দীর্ঘদিন লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ শ্রেণিভুক্ত কোম্পানিগুলোর বড় অংশের শেয়ার দরও কমেছে।
সূচকের দিক থেকে ডিএসইএক্স ৩০ পয়েন্ট কমে ৪,৯৩২ পয়েন্টে নেমে আসে। শরিয়াহ সূচক ও ডিএসই–৩০ সূচকও যথাক্রমে ৬ ও ১১ পয়েন্ট কমে দিনের লেনদেন শেষ করেছে। অর্থাৎ বাজারে সামগ্রিকভাবে নেতিবাচক প্রবণতাই প্রাধান্য পেয়েছে।
লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪৫৭ কোটি টাকা, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় কম। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সূচক পতনের সঙ্গে সঙ্গে লেনদেন কমে যাওয়া বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতিরই প্রতিফলন।