খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে পৌষ ১৪৩২ | ১৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফুটবল বিশ্বকাপে শিরোপা জয় ছাড়া আর কোনো অর্জনই এখন ইংল্যান্ড দল কিংবা দেশের সমর্থকদের সন্তুষ্ট করতে পারবে না—এমনই দৃঢ় বার্তা দিয়েছেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ক্রীড়াবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইএসপিএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে জানান, ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সের যুগ পেরিয়ে এখন ইংল্যান্ড ফুটবল এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে চূড়ান্ত সাফল্যই একমাত্র গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড।
২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলার মাধ্যমে নতুন আশার সূচনা হয়েছিল ইংল্যান্ডের। এরপর একের পর এক বড় টুর্নামেন্টে শেষ চার কিংবা ফাইনালে পৌঁছালেও শিরোপার স্বাদ পায়নি দলটি। ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে আর কোনো বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি না আসায় প্রত্যাশার চাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে।
কেইনের ভাষায়, গত বছর ইউরো ২০২৪–এর ফাইনালে হারের হতাশা এখনো তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে। তিনি মনে করেন, ট্রফি না জিততে পারলে দলকে ঘিরে থাকা নেতিবাচক আলোচনা কখনোই থামবে না। তাঁর কথায়, এখন এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে ইংল্যান্ড, যেখানে জয় ছাড়া আর কিছুই দেশ কিংবা খেলোয়াড়দের জন্য যথেষ্ট নয়।
ইউরোর ফাইনালে ওঠার পরও সমালোচনা যে থামেনি, সেটাই কেইনের কাছে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। তিনি বলেন, ফাইনাল খেললেও চারপাশে নেতিবাচক আওয়াজ ছিল, কারণ সবাই জানত—জয় না এলে এই আলোচনা চলতেই থাকবে। শেষ পর্যন্ত সেটাই হয়েছে, যা দলের মানসিকতায় গভীর প্রভাব ফেলেছে।
গত কয়েক বছরে ইংল্যান্ডের ধারাবাহিক অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেছেন এই স্ট্রাইকার। বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল, এরপর ইউরোর ফাইনাল, কোয়ার্টার ফাইনাল ও আবার ফাইনাল—বারবার সাফল্যের খুব কাছাকাছি গিয়েও থেমে যেতে হয়েছে। কেইনের মতে, এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে ইংল্যান্ড এখন বিশ্বের সেরা দলগুলোর একটি। বর্তমানে বিশ্ব র্যাংকিংয়ের চার নম্বরে থাকা দলটি তাই বড় টুর্নামেন্টে অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
এই অবস্থানে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে চাপও বেড়েছে বহুগুণ। কেইন স্বীকার করেন, প্রত্যাশার এই বোঝা নিয়েই মাঠে নামতে হবে। তাঁর মতে, দলটির মান ও প্রতিভায় কোনো ঘাটতি নেই, এখন প্রয়োজন বড় মুহূর্তে নিজেকে সামলে নেওয়ার মানসিক শক্তি।
বড় টুর্নামেন্টের চাপ ও রোমাঞ্চ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কেইন বলেন, এসব আসরই একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সেরা সময়। চাপ, উত্তেজনা ও দায়িত্ব—সবকিছু একসঙ্গে কাজ করে। তিনি নিজে এবং দল এই পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ইংল্যান্ডের অধিনায়কত্বকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সম্মান হিসেবে দেখেন কেইন। মাত্র ২৪ বছর বয়সে এই দায়িত্ব পাওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ইংল্যান্ডের হয়ে খেলা ছিল তার শৈশবের স্বপ্ন, আর জাতীয় দলের অধিনায়ক হওয়াই ছিল সেই স্বপ্নের চূড়ান্ত রূপ। এই দায়িত্ব তিনি কখনোই হালকাভাবে নেন না এবং দেশের জার্সিতে শিরোপা জেতাকেই নিজের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন।