খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে পৌষ ১৪৩২ | ২৪ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভে আশাব্যঞ্জক ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান গত ২২ ডিসেম্বর এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, বর্তমানে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮.০৪ বিলিয়ন ডলারে। গত ১ ডিসেম্বরের তুলনায় মাত্র ২০ দিনের ব্যবধানে রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তিদায়ক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী, চলতি মাসের শুরুর দিকে অর্থাৎ ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৬.৫১ বিলিয়ন ডলার। মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে ১.৫ বিলিয়ন ডলারের এই উল্লম্ফন এটাই প্রমাণ করে যে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের তারল্য সংকট অনেকটাই কেটে যেতে শুরু করেছে। মূলত প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্সের উচ্চ প্রবাহ এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলারের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে নিয়মিত ডলার ক্রয় করতে সক্ষম হচ্ছে।
রিজার্ভের এই শক্তিশালী অবস্থানের পেছনে বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়োপযোগী পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মতে, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ডলারের উদ্বৃত্ত সরবরাহ থাকায় তারা নিলামের মাধ্যমে ডলার ক্রয় করছে। চলতি অর্থবছরে এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ২.৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি সংগ্রহ করেছে। এর ফলে একদিকে যেমন দেশের রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে, অন্যদিকে ডলারের বিনিময় হার যেন আকস্মিকভাবে পড়ে না যায়, তাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে।
নিচে গত ২০ দিনের ব্যবধানে রিজার্ভের পরিবর্তনের একটি সংক্ষিপ্ত রূপরেখা প্রদান করা হলো:
| বিষয়বস্তু | ১ ডিসেম্বর (BPM-6) | ২২ ডিসেম্বর (BPM-6) | পরিবর্তনের হার/পরিমাণ |
|---|---|---|---|
| গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ | ২৬.৫১ বিলিয়ন ডলার | ২৮.০৪ বিলিয়ন ডলার | ১.৫৩ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি |
| রিজার্ভের প্রবৃদ্ধি | — | — | ৫.৭৭% (২০ দিনে) |
| বর্তমান অর্থবছরে ডলার ক্রয় | — | ২.৫ বিলিয়ন ডলার+ | বাজার স্থিতিশীল রাখতে ক্রয় |
| মুখ্য চালিকাশক্তি | — | রেমিট্যান্স ও নিলাম | বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ডলার সংগ্রহ |
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পূর্বের তুলনায় ব্যাংকগুলোতে ডলারের প্রবাহ এখন অনেক বেশি স্থিতিশীল। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং রপ্তানি আয়ের সময়মতো প্রত্যাবাসন বাজারকে চাঙা রেখেছে। বাজারে ডলারের যোগান বেশি থাকলে বিনিময় হার কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের নিরুৎসাহিত করতে পারে। তাই ভারসাম্য বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনে মুদ্রাবাজারকে একটি সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছে।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রিজার্ভের এই ধারাবাহিক উন্নতি আমদানি দায় মেটানো এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে আরও সুসংহত করবে। তবে এই প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে রেমিট্যান্স প্রবাহের বর্তমান গতি ধরে রাখা এবং হুন্ডির বদলে বৈধ পথে টাকা পাঠানোর জন্য প্রবাসীদের আরও উৎসাহিত করা প্রয়োজন। যদি বর্তমানের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে আগামী মাসগুলোতে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।