খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে শ্রাবণ ১৪৩২ | ২৩ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও শোকের সঙ্গে বাড়ছে জনমনে প্রশ্ন। দুর্ঘটনার কারণ জানতে দেশে-বিদেশে স্বীকৃত একমাত্র উপায় ‘ব্ল্যাকবক্স’ অথচ এখন পর্যন্ত এ নিয়ে সরকারি কোনো বক্তব্য নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন উঠেছে তাহলে “ব্ল্যাকবক্স কোথায়?”
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় ব্ল্যাকবক্স উদ্ধার ও বিশ্লেষণই মূল তদন্তের ভিত্তি হওয়া উচিত। তবে বিস্ফোরণ, আগুন ও ধ্বংসস্তূপে এখনও পর্যন্ত ব্ল্যাকবক্স উদ্ধারের কোনো নিশ্চিত সংবাদ পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই দুপুর ১টার দিকে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল ভবনের ওপর বিধ্বস্ত হয়। এতে এখন পর্যন্ত সরকারি হিসাবে ৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে আরও ১৬৫ জন। আহতদের অধিকাংশের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তবে দুর্ঘটনার দুদিন পার হয়ে গেলেও ব্ল্যাকবক্স বা তার তথ্য নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ।
এই পরিস্থিতিতে জনগণ ও বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, হয়তো সরকার কোনো তথ্য গোপন করছে।
একজন সাবেক বিমান প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “যে কোনো এভিয়েশন দুর্ঘটনার তদন্তে ব্ল্যাকবক্সের তথ্য অপরিহার্য। এমনকি প্রশিক্ষণ বিমানেও সাধারণত রেকর্ডিং ডিভাইস থাকে। প্রশ্ন হচ্ছে, সেটি থাকলে তা কোথায়?”
ব্ল্যাকবক্সটি সুরক্ষিত রাখতে সাধারণত বিমানের পিছনের দিকে রাখা হয়। যা টাইটানিয়াম ধাতু দিয়ে তৈরি; টাইটানিয়ামের বাক্সে আবদ্ধ থাকে। এজন্য ব্ল্যাক বক্স আগুন, পানি, চাপ, তাপ বা আঘাতে নষ্ট হয় না। বক্সটি এক ঘণ্টার জন্য প্রায় ১১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তাপমাত্রা সহ্য করতে পারে। তাই দুর্ঘটনায় বিমান ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে গেলে, আগুনে পুড়লে, পানিতে ডুবে গেলেও ব্ল্যাক বক্স থাকে অক্ষত।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, “প্লেন বিধ্বস্ত হয়ে এত বড় প্রাণহানি ঘটল, অথচ সরকার এখনো ‘ব্ল্যাকবক্স’ শব্দটিও মুখে আনেনি!”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির স্বার্থে দ্রুত ব্ল্যাকবক্সের সন্ধান ও তার তথ্য প্রকাশ জরুরি। না হলে এই দুর্ঘটনা ঘিরে আরও জল্পনা-কল্পনা ও অবিশ্বাস ছড়িয়ে পড়বে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের প্রায় প্রতিটি বিমানবাহিনী তাদের প্রশিক্ষণ বিমানে অন্ততপক্ষে একটি ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার বা ককপিট ভয়েস রেকর্ডার ব্যবহার করে, বিশেষ করে দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য। তাই “ব্ল্যাকবক্স নেই” এমন যুক্তি এখনকার সময়ে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
খবরওয়ালা/এমএজেড