খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 13শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৬ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল এখন দীর্ঘতম ফরম্যাট তথা লাল বলের ক্রিকেটে মনোনিবেশ করতে যাচ্ছে। আসন্ন পাকিস্তান সিরিজের জন্য আজ নাজমুল হোসেন শান্তকে অধিনায়ক করে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘোষিত এই দলে নবাগত দুই ক্রিকেটার তানজিদ হাসান তামিম ও অমিত হাসানের অন্তর্ভুক্তিকে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সিরিজের প্রথম টেস্টটি আগামী ৮ মে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘোষিত এই টেস্ট দলে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে এসেছেন তরুণ ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম এবং অমিত হাসান। তানজিদ তামিম ইতোমধ্যে জাতীয় দলের হয়ে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) নিয়মিত মুখ হলেও টেস্ট ফরম্যাটে এটিই তার প্রথম ডাক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার পরিসংখ্যান বেশ উজ্জ্বল। তিনি এ পর্যন্ত ২৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ৪০.৭২ গড়ে ১৭৯২ রান সংগ্রহ করেছেন। তার নামের পাশে রয়েছে ৫টি সেঞ্চুরি ও ৬টি হাফ সেঞ্চুরি। বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের মতে, তানজিদের টেকনিক টেস্ট ক্রিকেটের জন্য উপযুক্ত এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে তার পারফরম্যান্স তাকে এই সুযোগ এনে দিয়েছে।
অন্যদিকে, অমিত হাসান সম্পূর্ণ নতুন মুখ হিসেবে জাতীয় দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা অমিতের প্রথম শ্রেণির রেকর্ড অত্যন্ত সমৃদ্ধ। ৪৯টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৮২ ইনিংসে ব্যাটিং করে তিনি ৪৯.৩২ গড়ে ৩৬৫০ রান করেছেন। তার ঝুলিতে রয়েছে ১১টি সেঞ্চুরি ও ১৭টি হাফ সেঞ্চুরি। সম্প্রতি সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মধ্যাঞ্চলের বিপক্ষে পূর্বাঞ্চলের হয়ে ১৬২ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলে তিনি দলের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন এবং ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন। নির্বাচক কমিটির মতে, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজনীয় ধৈর্য ও শৃঙ্খলা অমিতের মধ্যে বিদ্যমান, যা তাকে লম্বা সময়ের জন্য কার্যকর খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে।
ঘোষিত ১৫ সদস্যের দলে ব্যাটিং বিভাগ সাজানো হয়েছে অভিজ্ঞ ও তারুণ্যের সংমিশ্রণে। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে ব্যাটিং লাইনআপে থাকছেন অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক। এছাড়া ওপেনিং পজিশনের জন্য মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলাম নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছেন। মিডল অর্ডারে শক্তির যোগান দিতে প্রস্তুত আছেন লিটন দাস। উইকেটরক্ষক হিসেবে লিটন দাসই মূল দায়িত্ব পালন করবেন বলে বিসিবি সূত্রে জানা গেছে। নবাগত তামিম ও অমিতের অন্তর্ভুক্তি ব্যাটিং গভীরতাকে আরও বৃদ্ধি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্পিন আক্রমণে বাংলাদেশ বরাবরের মতোই শক্তিশালী। সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বে স্পিন বিভাগ সামলাবেন বিশেষজ্ঞ স্পিনার তাইজুল ইসলাম। স্পিন বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে দলে ফিরেছেন নাঈম হাসান। নাঈম সবশেষ আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ খেলেছিলেন ২০২৪ সালের জুন মাসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। প্রায় এক বছর পর তার প্রত্যাবর্তন দলের বোলিং পরিকল্পনাকে আরও বৈচিত্র্যময় করবে।
পেস বোলিং আক্রমণে বড় পরিবর্তন এসেছে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেসারদের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে। গত ১৬ মাস ধরে টেস্ট ক্রিকেটের বাইরে থাকা তাসকিন আহমেদ ও শরীফুল ইসলাম লাল বলের ক্রিকেটে ফিরেছেন। তারা সর্বশেষ ২০২৪ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট খেলেছিলেন। ইনজুরি কাটিয়ে গতি তারকা ইবাদত হোসেন চৌধুরী এবং তরুণ তুর্কি নাহিদ রানার অন্তর্ভুক্তি পেস বিভাগকে পূর্ণতা দিয়েছে। গতি ও সুইংয়ের মিশেলে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে চাপে ফেলাই হবে এই পেস ইউনিটের মূল লক্ষ্য।
প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমন নতুনদের ওপর অগাধ আস্থা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, তানজিদ ও অমিতের মতো তরুণ ক্রিকেটাররা দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সেবা করতে সক্ষম। বিশেষ করে অমিতের ধারাবাহিক রান করার ক্ষমতা এবং তানজিদের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ঘরানা টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের নতুন কৌশল হিসেবে কাজ করতে পারে। বিসিবির লক্ষ্য দীর্ঘমেয়াদী একটি শক্তিশালী টেস্ট দল গঠন করা, যেখানে সিনিয়রদের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুনদের তারুণ্য সমান তালে ভূমিকা রাখবে।
পাকিস্তান ক্রিকেট দল পূর্ণাঙ্গ এই সিরিজের জন্য আগামী ৩ মে ঢাকা অবতরণ করবে। সিরিজের চূড়ান্ত সূচি অনুযায়ী:
প্রথম টেস্ট: ৮ মে, মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম, ঢাকা।
দ্বিতীয় টেস্ট: ১৬ মে, সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম, সিলেট।
পাকিস্তান সফর শেষে বাংলাদেশ দল এই দুই টেস্টের মধ্য দিয়ে আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অর্জনের লক্ষ্যে মাঠে নামবে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের জন্য ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ দল:
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), মেহেদী হাসান মিরাজ (সহ-অধিনায়ক), মাহমুদুল হাসান জয়, সাদমান ইসলাম, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, তানজিদ হাসান তামিম, অমিত হাসান, তাইজুল ইসলাম, নাঈম হাসান, তাসকিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম, ইবাদত হোসেন চৌধুরী ও নাহিদ রানা।