খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
চলতি ২০২৬ আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) পারফরম্যান্স অত্যন্ত হতাশাজনক। দশ দলের এই টুর্নামেন্টে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে অবস্থান করছে দলটি। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এবার মাঠের শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়েও বিতর্কে জড়ালো কেকেআর। আজ লখনউয়ের শ্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি স্টেডিয়ামে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ম্যাচে ব্যাটার অংক্রীশ রঘুবংশীর আউটকে কেন্দ্র করে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ডাগআউটে ব্যাট ছুড়ে মারা এবং ম্যাচ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দলের কোচের বাদানুবাদ মিলিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
ম্যাচের পঞ্চম ওভারের শেষ বলে এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। লখনউয়ের পেসার মোহাম্মদ শামির একটি বল মিড অনে ঠেলে দিয়ে রান নেওয়ার জন্য পিচের অর্ধেক পর্যন্ত এগিয়ে গিয়েছিলেন কেকেআর ব্যাটার অংক্রীশ রঘুবংশী। তবে শামি দ্রুত বলটি সংগ্রহ করে স্ট্রাইক প্রান্তের উইকেট লক্ষ্য করে ছুড়ে মারেন। রান আউট থেকে বাঁচতে রঘুবংশী তখন দ্রুত ক্রিজে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। শামির ছোড়া বলটি সরাসরি রঘুবংশীর গায়ে আঘাত করলে লখনউয়ের ফিল্ডাররা ‘অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড’-এর আবেদন জানান।
মাঠের আম্পায়াররা বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তৃতীয় আম্পায়ার রোহন পন্ডিতের কাছে পাঠান। রিপ্লে দেখার পর তৃতীয় আম্পায়ার সিদ্ধান্ত দেন যে, রঘুবংশী ক্রিজে ফেরার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর দৌড়ের দিক পরিবর্তন করেছিলেন এবং বলের গতিপথে বাধা সৃষ্টি করেছিলেন। আইসিসির আইন অনুযায়ী, ফিল্ডারকে বল ধরতে বা উইকেট লক্ষ্য করে বল ছুড়তে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা প্রদান করলে ব্যাটারকে আউট ঘোষণা করা হয়। আম্পায়ারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠেই উষ্মা প্রকাশ করেন রঘুবংশী।
তৃতীয় আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে না পেরে রাগান্বিত অবস্থায় মাঠ ছাড়েন অংক্রীশ রঘুবংশী। ডাগআউটে পৌঁছানোর পর তাঁর ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে এবং তিনি হাতের ব্যাটটি সজোরে কুশনের ওপর ছুড়ে মারেন। ৮ বলে মাত্র ৯ রান করে সাজঘরে ফেরা রঘুবংশীর এই আচরণ স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিন এবং টেলিভিশনে ধরা পড়ে।
উত্তেজনা ডাগআউটের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। কলকাতার প্রধান কোচ অভিষেক নায়ার আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মাঠের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন। কোচের এমন উত্তেজিত আচরণ এবং ম্যাচ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হওয়ার বিষয়টি আইপিএলের আচরণবিধির লঙ্ঘনের আওতায় পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিষেক নায়ারের দাবি ছিল, রঘুবংশী কেবল আত্মরক্ষার চেষ্টা করছিলেন, ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য তাঁর ছিল না।
উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতিতে কেকেআরের ব্যাটিং লাইনআপ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। রঘুবংশীর বিদায়ের পর দলের ইনিংস পুনর্গঠনের ভার পড়ে রিংকু সিংয়ের ওপর। এক প্রান্তে উইকেট পতন অব্যাহত থাকলেও রিংকু সিং একাই লড়াই চালিয়ে যান। তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই কলকাতা নাইট রাইডার্স নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৫৫ রানের একটি সম্মানজনক সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়।
রিঙ্কু সিং ৫১ বলে অপরাজিত ৮৩ রানের একটি দৃষ্টিনন্দন ইনিংস খেলেন। তাঁর এই ইনিংসে ছিল ৭টি চার এবং ৫টি ছক্কার মার। রিংকুর লড়াকু ইনিংসের কারণেই কলকাতা ১৫০ রানের কোটা পার করতে পারে। অন্য ব্যাটারদের মধ্যে কেউই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেননি, যা কলকাতার বর্তমান ফর্মের দৈন্যদশাকেই ফুটিয়ে তুলেছে।
১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লখনউ সুপার জায়ান্টস শুরু থেকেই সাবধানী ব্যাটিং করছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত লখনউ ৭ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৪২ রান সংগ্রহ করেছে। কেকেআরের বোলাররা শুরুর দিকে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করলেও বড় সংগ্রহের অভাব এবং ডাগআউটের মানসিক অস্থিরতা ফিল্ডিংয়ে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
লখনউয়ের অধিনায়ক ঋষভ পন্ত টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, শামির শুরুর দিকের স্পেল এবং কলকাতার ব্যাটিং বিপর্যয় তা সঠিক বলে প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে, কেকেআরের জন্য এই ম্যাচটি কেবল পয়েন্ট টেবিলের লড়াই নয়, বরং নিজেদের শৃঙ্খলা ও মনোযোগ বজায় রাখার একটি বড় পরীক্ষা।
অংক্রীশ রঘুবংশীর ব্যাট ছুড়ে মারা এবং কোচ অভিষেক নায়ারের বাদানুবাদের ঘটনাটি ম্যাচ রেফারি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আইপিএলের ‘কোড অফ কন্ডাক্ট’ অনুযায়ী ম্যাচ কর্মকর্তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ বা মাঠের সরঞ্জামের ক্ষতিসাধন করার জন্য সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও কোচের ওপর জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। সাধারণত লেভেল-১ বা লেভেল-২ অপরাধ হিসেবে গণ্য হলে ম্যাচ ফির বড় একটি অংশ জরিমানা করা হয়। রাতের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্কোরকার্ড সংক্ষেপ (কেকেআর ইনিংস):
কেকেআর: ১৫৫/৭ (২০ ওভার)
রিংকু সিং: ৮৩* (৫১ বল)
অংক্রীশ রঘুবংশী: ৯ (৮ বল)
মোহাম্মদ শামি: ২ উইকেট
লখনউ: ৪২/১ (৭ ওভার) [চলমান]