খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
গতকাল বুধবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ট্রাকে সাশ্রয়ী দামের ভোগ্যপণ্য কিনতে মানুষদের মধ্যে তীব্র চাপ লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসহায় ক্রেতাদের জন্য লাইনে দাঁড়ানো এক বাস্তব যুদ্ধের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের বিটিসিএল অফিসের পাশে টিসিবির পণ্য কেনার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রেহেনা বেগম বলেন, “যারা ঠেলাঠেলি করতে পারে, তারা মাল পাবেন। আমি বুড়ো মানুষ; ঠেলাঠেলিতে জিততে পারি না।” তিন ঘণ্টা দাঁড়ানোর পরও তিনি খালি হাতে বাড়ি ফিরেছেন। কারওয়ান বাজারের টিসিবি ভবনের সামনে মাহমুদ মিয়া জানান, “আমি পাঁচ-ছয়জনের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। ধাক্কাধাক্কিতে লাইন ভেঙে গেছে। এখন আমার সামনে ৫০-৬০ জন দাঁড়িয়ে। মাল পাব কি না, আল্লাহ জানে।”
জাতীয় প্রেস ক্লাবের পাশে সিরিয়াল নম্বর ৫৬ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা জাহেদা বেগমও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি জানান, অনেকেই একবার পণ্য নিয়ে পরে আবার লুকিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন, ফলে লাইনে অগ্রগতি সম্ভব হচ্ছে না।
গতকাল ঢাকা শহরের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও কলোনি বাজার, প্রেস ক্লাব ও ইসিবি চত্বরে টিসিবির ট্রাকে বিক্রয় কার্যক্রমে দেখা গেছে নারী-পুরুষের দীর্ঘ সারি। লাইনে দাঁড়ানো সবার চেষ্টা থাকে আগে পণ্য পাওয়ার।
রমজান উপলক্ষে সারাদেশে ৪৫০টি ট্রাকের মাধ্যমে প্রতিদিন নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য পণ্য বিক্রি করছে টিসিবি। প্রতিটি ট্রাক থেকে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ নিম্নলিখিত পরিমাণ পণ্য কিনতে পারেন:
| পণ্যের নাম | পরিমাণ | ট্রাক মূল্য (টাকা) | বাজার মূল্য (টাকা) | সাশ্রয় (টাকা) |
|---|---|---|---|---|
| সয়াবিন তেল | ২ লিটার | ২৩0 | ৩৯0 | ১৬0 |
| মসুর ডাল | ২ কেজি | ৭0 | ১৪0 | ৭0 |
| চিনি | ১ কেজি | ৮0 | ১৩০ | ৫০ |
| ছোলা | ১ কেজি | ৬0 | ১০০ | ৪0 |
| খেজুর | ০.৫ কেজি | ৮0 | ১২০ | ৪0 |
| মোট | – | ৫৯0 | ৯২০ | ৩৩০ |
প্রতি ট্রাকে ৪০০ জনের জন্য পণ্য বরাদ্দ থাকলেও লাইনে দুই-গুণ মানুষ দাঁড়ায়। সয়াবিন তেলে সবচেয়ে বেশি সাশ্রয় হওয়ায় ক্রেতা ও ডিলারের মধ্যে আকর্ষণ বেশি। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দেখা গেছে বিক্রির শেষদিকে ৬০-৭০ জন তেল পাননি। অভিযোগ উঠেছে, কিছু তেল অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছে। টিসিবি জানিয়েছে, প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।
সিরাজগঞ্জে বিক্রি ইফতারের সময় শুরু হওয়ায় মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। বগুড়া ক্যাম্পের সহকারী পরিচালক মো. সাদ্দাম হোসেন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে বিক্রির সময়সূচি ঠিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম নগরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের মতো পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে পণ্য কেনার পর ক্রেতাদের মধ্যে খুশি ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিসের যুগ্ম পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, “একজন ক্রেতা একাধিকবার পণ্য নিতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হাতের আঙুলে অমোচনীয় কালি ব্যবহার করা হচ্ছে।”
এর মাধ্যমে স্পষ্ট, সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্যের জন্য সাধারণ মানুষ কতটা সংগ্রাম করছেন তা দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও শারীরিকভাবে দুর্বলদের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি।