খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ১১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জামালপুরে এক ভয়াবহ সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে, আর একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালত জানিয়েছে, রাষ্ট্রপক্ষের প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩)/৭ ধারা অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
| নাম | পিতার নাম | গ্রামের নাম | উপজেলা | জেলা | রায় |
|---|---|---|---|---|---|
| মো. ফারুক হোসেন | আজিজুল হক | পাকুল্যা মধ্যপাড়া | সদর | জামালপুর | মৃত্যুদণ্ড |
| মুনছুর আলী | আলী আকবর | পাকুল্যা মধ্যপাড়া | সদর | জামালপুর | মৃত্যুদণ্ড |
| ফেরদৌস হোসেন | শফিকুল ইসলাম | পাকুল্যা মধ্যপাড়া | সদর | জামালপুর | মৃত্যুদণ্ড |
| জাহিদুল ইসলাম | জামাল উদ্দিন | পাকুল্যা মধ্যপাড়া | সদর | জামালপুর | খালাস |
আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনা ঘটে ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই রাতে সদর উপজেলার মেছেরচোরা মোড় এলাকায়। ভুক্তভোগী ও তার স্বামী ডিমের আড়তের পাওনা টাকা আদায় করতে গেলে, স্বামীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। এরপর কয়েকজন ব্যক্তি ভুক্তভোগী নারীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরের দিন ভুক্তভোগী নারী জামালপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার চারজন প্রাথমিক সাক্ষীর বিবৃতির পর আদালত আসামিদের অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণা করে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের কঠোর ধারার ভিত্তিতে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপর একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।”
ভুক্তভোগীর পরিবার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে এটিকে ন্যায়সংগত মনে করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই কঠোর রায় সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে একটি শক্তিশালী বার্তা প্রেরণ করেছে। তারা উল্লেখ করেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা এবং আদালত যৌন সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
এই রায় কেবলমাত্র তিনজনের জন্য শাস্তি নয়, বরং এটি নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির এক গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।