খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দেশে ফিরে আসেন। দেশে প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার উপস্থিতি নতুন সাড়া সৃষ্টি করেছে। আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর তিনি প্রথমে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় প্রেক্ষাপটের প্রতি সম্মান প্রকাশ করবেন।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে তারেক রহমানের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জাতীয় ঐতিহ্য ও স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোও তারেক রহমানের পরিকল্পিত কর্মসূচির অংশ।
| তারিখ | সময় | কার্যক্রম | স্থান/বিস্তারিত |
|---|---|---|---|
| ২৬ ডিসেম্বর | জুমার নামাজের পর | শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত | মিরপুর, ঢাকা |
| ২৬ ডিসেম্বর | নামাজের পর | জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন | শহীদ মিনার, ঢাকা |
| ২৭ ডিসেম্বর | সকাল | ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত | ইনকিলাব মঞ্চ, ঢাকা |
| ২৭ ডিসেম্বর | মধ্যাহ্ন | ভোটার হিসেবে ভোট প্রদান | নির্বাচনী কেন্দ্র |
| ২৭ ডিসেম্বর | বিকেল | জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পরিচর্যা | পঙ্গু হাসপাতাল, ঢাকা |
সংবাদ সম্মেলনে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, দেশে ফিরে আসার পর তারেক রহমানের এই কর্মসূচি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে যথেষ্ট গুরুত্ব বহন করছে। কবর জিয়ারত ও জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন একদিকে দেশের প্রতি তারেক রহমানের গভীর সম্মান প্রদর্শন করবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতৃত্ব হিসেবে জনসংযোগ বৃদ্ধি করবে।
এর পাশাপাশি আগামী শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত করবেন। এরপর তিনি ভোটার হিসেবে ভোট দেবেন এবং পরে জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের সেবা ও পরিচর্যার জন্য পঙ্গু হাসপাতালে যাবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন নির্বাসন থেকে ফিরে দেশের মাটিতে তারেক রহমানের উপস্থিতি বিএনপির ভেতর এক নতুন প্রেরণা যোগ করবে। এছাড়া তার ব্যক্তিগত কর্মসূচির মাধ্যমে দলীয় ঐক্য দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন হবে। বিশেষ করে জুমার নামাজের পর কবর জিয়ারত ও জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন একদিকে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি তারেক রহমানের সম্মান প্রদর্শন করবে, অন্যদিকে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ন বার্তা পৌঁছে দেবে।
অতএব, এই কর্মসূচি শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন।