খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫
গত ৫ আগস্টের পর আনিসুল, সালমানসহ সাবেক অন্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সচিব, মেয়রদের এক হাতে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা হতো। তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে আনিসুল, সালমানসহ বেশ কয়েকজনকে দুই হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে হাজতখানা থেকে আদালতে তোলা হয়েছে। কেন তাদেরকে দুই হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরানো হয় তার কারণ জানালেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী।
বুধবার (১২ মার্চ) সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে (সিএমএম) তোলা হয় আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতাকে। হাজতখানা থেকে বের করানোর সময়ে দেখা যায়, মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ ও শিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। সালমান ও পলকের দুই হাত পেছনে। দুই হাতেই পরানো হাতকড়া।
এ ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান সেলিম, ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সচিব মহিবুল হক ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ছেলের শাফি মুদ্দাসির খান জ্যোতিকেও আদালতে তোলা হয়। তাদের সবার পেছনে দুই হাত, দুই হাতেই পরানো হাতকড়া।
তবে, প্রত্যেককে কাঠগড়ায় তোলার সময়ে এক হাতের হাতকড়া পুলিশ খুলে দেয়। আদালতের শুনানি শেষ হলে বিচারক এজলাস ত্যাগ করেন। তখন পুলিশ আবার কাঠগড়ায় সালমান, পলক, মহিবুল, সুলাইমান ও সাফির হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে দেয়। আবার তাদের মাথায় পরানো হয় হেলমেট। মুখের সামনে অংশ ঢেকে দেওয়া হয় গ্লাসে। পরে তাদের আদালত ভবনের দোতলা থেকে সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে হাজতখানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। এরপর সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ ২৭ জন মন্ত্রী গ্রেপ্তার হন। তাঁরা কারাগারে আছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন হাসিনা সরকারের ৬ জন প্রতিমন্ত্রী ও ৩ জন উপমন্ত্রী। হাসিনার ৩ উপদেষ্টাও গ্রেপ্তার হয়েছেন। এর বাইরে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন ৪৩ জন সাবেক সংসদ সদস্য ও ১১ জন সাবেক আমলা।
সালমান, পলকদের দুই হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা প্রসঙ্গে পিপি ওমর ফারুক ফারুকী আদালতকে বলেন, ‘ইদানীং সালমান, আনিসুলসহ বেশ কয়েকজন আসামিকে দুই হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলার বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। মূলত বেশ কয়েকজন আসামি হাজতখানা থেকে আদালতে তোলার সময় হাত উঁচু করে চিৎকার করে সরকারবিরোধী বক্তব্য দিতে চান। তারা যাতে হাত উঁচু করে এ ধরনের কথাবার্তা না বলতে পারেন, সে জন্য তাদের হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা হচ্ছে।’
খবরওয়ালা/আরডি