খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, একীভূত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের সাধারণ গ্রাহকরা আজ (১ জানুয়ারি) থেকে তাদের আমানতের অর্থ ফেরত পেতে পারবেন। প্রথম পর্যায়ে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এই উদ্যোগটি গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
| ব্যাংকের নাম | প্রকার | মন্তব্য |
|---|---|---|
| ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক | ইসলামি | সাধারণ আমানত ফেরত শুরু |
| সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক | ইসলামি | নির্দিষ্ট কিস্তিতে অর্থ উত্তোলন |
| ইউনিয়ন ব্যাংক | ইসলামি | চলতি ও সঞ্চয়ী আমানত ফেরত |
| গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক | ইসলামি | চিকিৎসা জরুরি ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা |
| এক্সিম ব্যাংক | ইসলামি | সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা একবারে উত্তোলন |
বাংলাদেশ ব্যাংক মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই স্কিমের বিস্তারিত ঘোষণা করেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেসব সাধারণ গ্রাহকের আমানত দুই লাখ টাকার মধ্যে, তাদের অর্থ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে। ‘আমানত সুরক্ষা আইন’ অনুযায়ী এই টাকা যে কোনো সময় সম্পূর্ণ উত্তোলন করা যাবে।
যাদের আমানত দুই লাখ টাকার বেশি, তাদের জন্য অর্থ উত্তোলন কিস্তিতে হবে। এখানে শুধু চলতি ও সঞ্চয়ী আমানত নির্দিষ্ট সময়ে উত্তোলন করা যাবে। পুরো অর্থ উত্তোলনের সময়সীমা সর্বাধিক ২৪ মাস ধরা হয়েছে।
তবে বিশেষভাবে ক্যানসার, কিডনি ডায়ালাইসিস বা অন্যান্য গুরুতর রোগে আক্রান্ত গ্রাহকদের জন্য মানবিক বিবেচনা রেখে স্কিমে বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার বাইরে বা আগে হলেও তাদের চিকিৎসার জন্য আমানতের অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই স্কিম সাধারণ মানুষের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একদিকে গ্রাহকরা নিরাপদে তাদের আমানত ফেরত পাবেন, অন্যদিকে ব্যাংকগুলোর আর্থিক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
গ্রাহকরা তাদের নিকটস্থ শাখায় গিয়ে প্রথম পর্যায়ে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা উত্তোলন শুরু করতে পারবেন। পরবর্তী কিস্তি সময়সূচি ব্যাংক থেকে সরাসরি জানানো হবে। এছাড়া ব্যাংকগুলো গ্রাহক সহায়তার জন্য হেল্পলাইন ও অনলাইন সেবা চালু করেছে, যাতে তারা সহজে তথ্য জানতে ও অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ দেশের ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও আস্থা বৃদ্ধি করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অর্থ সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক বড় পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হচ্ছে।