খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬
নেদারল্যান্ডসে নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরে আতশবাজির অতিরিক্ত ব্যবহার আবারও ভয়াবহ বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠেছে। এবারের উদযাপনে আতশবাজি দুর্ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং পৃথক এক অগ্নিকাণ্ডে রাজধানী আমস্টারডামের একটি ঐতিহাসিক গির্জা সম্পূর্ণভাবে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘটনাগুলো দেশজুড়ে নিরাপত্তা, জনশৃঙ্খলা ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নেদারল্যান্ডসে নববর্ষ উপলক্ষে আতশবাজি পোড়ানো একটি দীর্ঘদিনের সামাজিক রীতি। তবে এই উদযাপন প্রতিবছরই বিপুলসংখ্যক আহত ব্যক্তি, অগ্নিকাণ্ড, সহিংসতা এবং বিপুল আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নববর্ষের প্রাক্কালে এবং পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় আতশবাজি ও সংশ্লিষ্ট সহিংসতায় অন্তত দুইজন প্রাণ হারান।
নিহতদের মধ্যে একজন ছিলেন আমস্টারডামের কাছাকাছি এলাকার ৩৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, যিনি শক্তিশালী আতশবাজির বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। অন্যজন ছিলেন দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর নিজমেগেনের এক কিশোর, যার ক্ষেত্রেও আতশবাজি দুর্ঘটনাই মৃত্যুর কারণ বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এসব ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—উৎসবের নামে বিপজ্জনক আতশবাজির ব্যবহার কতটা গ্রহণযোগ্য।
এদিকে, আমস্টারডামের কেন্দ্রস্থল ভন্ডেলপার্কের কাছে অবস্থিত একটি ঐতিহাসিক গির্জায় মধ্যরাতের কিছু পরেই ভয়াবহ আগুন লাগে। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে ১৮৭২ সালে নির্মিত এই গির্জাটি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়। দমকল বাহিনী কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে ভবনটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। সৌভাগ্যবশত, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, নববর্ষ উদযাপন ঘিরে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রায় ২৫০ জনকে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং একাধিক শহরে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করতে হয়েছে। পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ভারী আতশবাজি, অগ্নিসংযোগ এবং জরুরি পরিষেবার ওপর হামলার ঘটনা এবারও উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঘটনা নেদারল্যান্ডসে আতশবাজি ব্যবহারের আইন আরও কঠোর করা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের সংখ্যা | ২ জন |
| গ্রেফতার | প্রায় ২৫০ জন |
| ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা | ১টি ঐতিহাসিক গির্জা |
| গির্জা নির্মাণকাল | ১৮৭২ সাল |
| প্রধান কারণ | আতশবাজি ও অগ্নিসংযোগ |
সামগ্রিকভাবে, এবারের নববর্ষ উদযাপন নেদারল্যান্ডসে আনন্দের পাশাপাশি শোক ও ক্ষতির বার্তাই বেশি বহন করেছে। সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—কীভাবে ঐতিহ্য রক্ষা করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।